হাইকোর্টে জামিন না মিললেও নিম্ন-332359 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


হাইকোর্টে জামিন না মিললেও নিম্ন আদালতে মিলেছে

আশরাফ-উল-আলম   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হাইকোর্টে জামিন না মিললেও নিম্ন আদালতে মিলেছে

রাজধানীর বিমানবন্দর থানার একটি সোনা চোরাচালান মামলার আসামির হাইকোর্টে জামিন না মিললেও নিম্ন আদালতের বিচারক তাঁকে জামিন দিয়েছেন। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নম্বর-৪-এর বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এই জামিন দেন। গত বছর ডিসেম্বরে আদালতের বার্ষিক ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন এই জামিন দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্ত আসামি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার কেশিয়ারা গ্রামের আবদুর রহমান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ইদানীং সোনা চোরাচালান অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় হাইকোর্ট আসামিদের জামিন দেন না। হাইকোর্ট যেখানে জামিন দেন না, সেখানে নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া তো অবশ্যই অস্বাভাবিক।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ জুন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ২ নম্বর আগমনী ক্যানোপির বাইরে তথ্যকেন্দ্রের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় আবদুর রহমানের দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেটে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা সাড়ে চার লাখ টাকা ও দুটি সোনার বার উদ্ধার করেন কর্তব্যরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আবদুর রহমান ওই সোনার বার ও টাকার বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর এক আত্মীয় বিমানের একজন অজ্ঞাতপরিচয় যাত্রীর কাছে সোনার বার দুটি পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় ৮ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উত্তরার সদস্য এসআই মেলকাম ডি সিলভা বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি-এর ১ বি/২৫ ডি ধারায় একটি মামলা করেন। ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর পুলিশি তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য এই আদালতে মামলাটি স্থানান্তর হয় এবং গত বছর ২৫ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, হাইকোর্ট গত বছর ১ নভেম্বর আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে কেন আসামিকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানির সময় হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দেবেন না বলে জানালে আসামির আইনজীবী জামিনের আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়নি মর্মে আদালতে জানান। হাইকোর্ট জামিনের আবেদন উপস্থাপন হয়নি মর্মে জামিন নামঞ্জুর করেন। এর আগে মামলা তদন্তকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে গত বছর ২ আগস্ট তা নামঞ্জুর হয়। একই আদালতে পরে আরেকবার জামিনের আবেদন করা হলেও গত বছর ২৭ অক্টোবর তা প্রত্যাহার করা হয়।

নথিতে আরো দেখা যায়, আদালত জামিন আদেশে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আসামি হাজতে আছেন। আসামি অসুস্থ হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মর্মে কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামি একজন আয়করদাতা এসব বিষয় বিবেচনা করে একজন আইনজীবী ও একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় আসামিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হলো। পরে গত ৩ জানুয়ারি আসামির জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

টাকা জিম্মায় নেওয়ার আবেদন : আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা সাড়ে চার লাখ টাকা জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই আবেদন জানানো হয়। আদালত আগামী ১০ মার্চ এই আবেদনের ওপর শুনানির  দিন ধার্য করেছেন।

ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান খান রচি কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামি তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করায় প্রমাণ হয় যে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছিল।

অতিরিক্ত পিপি আরো বলেন, আসামির জামিন আবেদনেও সোনার বার তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করার কথা স্বীকার করা হয়েছিল। কোনো প্রকার শুল্ক না দিয়ে সোনার বার বিদেশ থেকে এনে বিমানবন্দর এলাকা পার করার চেষ্টাই চোরাচালান। জামিন শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়েছিল। আদালত জামিন দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে জামিন দিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালত জামিন না দিলে নিম্ন আদালত কর্তৃক ওই আসামির জামিন দেওয়া সমীচীন নয়।

মন্তব্য