kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেজি ৪০০ টাকা

শজনের গুণ যেমন, ঝাঁজও তেমন

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শজনের গুণ যেমন, ঝাঁজও তেমন

শজনে ডাঁটা এখনো পরিপুষ্ট হয়নি, ভেতরে আঁশও তৈরি হয়নি ভালো করে। এর পরও যশোরের হাটবাজারে কচি শজনে ডাঁটা ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুর দিকে সরবরাহ কম হওয়ায় এবং অপরিপুষ্ট শজনে ডাঁটার প্রতি যশোরের লোকজনের আগ্রহ থাকায় এত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের কাঁচাবাজারগুলো ইতিমধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ভরে গেছে। চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দামের দিক থেকে গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলোর হেরফের হলেও গত কয়েক দিন ধরে শজনে ডাঁটার দাম ৪০০ টাকার নিচে নামছে না। গত কয়েক দিন যশোর শহরের বড় বাজার, রেলস্টেশন বাজার, চাঁচরা মোড় বাজার, পুলের হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে চড়া দামে শজনে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য সবজির দাম এখনো গড়পড়তায় রয়েছে।

যশোরের অন্যতম এতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে সরিষা শজনে ও জিয়োল মাছের শজনে ঝোল। শজনে মৌসুসের শুরুর দিকে, বিশেষ করে শজনে কচি থাকা অবস্থায় এর প্রতি যশোরবাসীর আগ্রহ বেশি। তাই চাষিরাও আগাম শজনে বাজারে তোলার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন।

গত বুধবার যশোরের বড় বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন আরবপুর গ্রামের বাসিন্দা চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম সজল। ব্যাগে শজনে দেখে জিজ্ঞাসা করতেই ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে কথা বলেন তিনি। বললেন, ‘শোল মাছ দিয়ে খাওয়ার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে ২৫০ গ্রাম শজনে কিনেছি। মাংসের চেয়ে বেশি দাম হলেও করার কিছু নেই। শজনের তো অনেক গুণ রয়েছে। ’

বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মজনু ব্যাপারী বললেন, ‘এখন শজনে খুবই কচি। এর স্বাদ আলাদা। বেশির ভাগ ক্রেতা ২৫০ গ্রাম পরিমাণ শজনে কিনছে। আমি প্রতিদিন চার পাঁচ কেজি শজনে বিক্রি করছি। ’

শজনের পরিচিতি : শজনে গাছ সারা বছর অবহেলিতই থাকে। বলতে গেলে বিনা যত্নে শজনে ফলে। গ্রীষ্ম মৌসুমে চিকন লাঠির মতো শজনে ঝুলে পড়ে। এর ভেতরের শাঁস খুবই সুস্বাদু। কিন্তু কচি শজনের স্বাদ অন্য রকম। মুখে দিলে গলে যায়। তরকারির স্বাদ বাড়ায়।

সবজির মধ্যে শজনে ঔষধি গুণের দিক দিয়ে সর্বাগ্রে রয়েছে। শজনে বসন্ত রোগেরও প্রতিষেধক। এর ইংরেজি নাম মরিংগা বা ড্রামস্টিক ট্রি। তামিল মুরঙ্গা বা মুনাক্কাই থেকে এ নাম এসেছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera Lam।

যশোরে স্থানীয়ভাবে শজনেকে ‘খাড়া’ বলা হয়। বৃক্ষ জাতীয় গাছ আর আঁশ জাতীয় সবজির মধ্যে একমাত্র শজনেরই ফুল, পাতা, ডাঁটা ও ছাল খাওয়া যায়। এ ছাড়া শজনের প্রচুর ভেষজ গুণ রয়েছে। হাম, বসন্ত, সর্দি, কুষ্ঠ, কৃমি, উচ্চ রক্তচাপ, টিউমার, জ্বর, অর্শ, হিক্কা, দাঁতের মাড়ি ফোলা, চোখের অসুখ, দাদ ছাড়াও আরো অনেক রোগ নিরাময়ে শজনে যথেষ্ট কার্যকর। শজনে খেলে আহারে রুচি আসে। ফুল ও ছাল খেলে সর্দি-কাশি সেরে যায়। যকৃতের জন্য ফুল খুবই কার্যকর। ডাঁটায় আছে অ্যামাইনো এসিড। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শজনে ফলে। ডাল কেটে লাগালেই দুই বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়।


মন্তব্য