বিড়ালের জন্য ভালোবাসা-331992 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


বিড়ালের জন্য ভালোবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিড়ালের জন্য ভালোবাসা

কুকুরের তাড়া খেয়ে গাছের মগডালে আশ্রয় নেওয়া একটি বিড়াল নামানো হয় ক্রেন দিয়ে। ছবি : বিডিনিউজ

কুকুরের তাড়া খেয়ে একেবারে গাছের মগডালে। আবার কাকের তাড়া খেয়ে এ ডাল থেকে ও ডাল। এভাবে কাটে তিন দিন। এ কদিন অভুক্ত থাকলেও কুকুরের ভয়ে নিচে নামেনি সে। অভুক্ত থেকে হয়ে পড়ে দুর্বলও। শেষ পর্যন্ত গতকাল বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটিয়ে ফায়ার সার্ভিসের স্কাইলিফট ব্যবহার করে নিচে নামিয়ে আনা হলো বিড়ালটিকে। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে ঘটে এ ঘটনা।

গতকাল বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন বিড়ালটিকে উদ্ধার করছিলেন, তখন তা প্রত্যক্ষ করে কয়েক শ মানুষ। কী হয়, কী হয় এ নিয়ে তাদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত ছিল না। বিড়ালটির সৌভাগ্য বটে। কুকুরে নাস্তানুবাদ বিড়ালটির শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়েছে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বাসায়। সেখানে আরো ৯টি পোষা বিড়ালের সঙ্গে থাকছে সে।

সচিবালয়ের বিভিন্ন সূত্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, সচিবালয়ে কমপক্ষে ১৫-২০টি কুকুর আছে। সীমানা দেয়াল থাকার পরও এগুলো বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভবনে ঘুরঘুর করত বিড়ালটি। দিন কয়েক আগে একটি কুকুরের আক্রমণে বিড়ালটির পিঠের মাংস উঠে যায়। এরপর থেকে বিড়ালটি কুকুর দেখলেই দৌড় দিয়ে লুকিয়ে থাকত। গত মঙ্গলবার একটি কুকুর তাড়া করলে বিড়ালটি সচিবালয়ের চার নম্বর ভবনের সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছে উঠে যায়। কিন্তু প্রথম যে গাছে উঠেছিল, সেখানে আছে কাকের বাসা। ফলে কাক বিড়ালটিকে আক্রমণ করলে ডাল বেয়ে পার্শ্ববর্তী গাছের ডালে অবস্থান নেয়, প্রায় ৩০ ফুট ওপরে।

এরপর থেকে ভয়ে আর নিচে নামেনি বিড়ালটি। বিষয়টি প্রথম নজরে পড়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর গাড়িচালক আজগর আলীর। তিনি বিড়ালটির অবস্থান লক্ষ্য করে আসছিলেন। একপর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বিড়ালের প্রাণ বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিসের সচিবালয় ইউনিটের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান। এই ইউনিটের কর্মকর্তারা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে বার্তা পাঠান। পরে বিকেল পৌনে ৪টায় একটি স্কাইলিফট নিয়ে হাজির হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রধান কার্যালয় থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীর সঙ্গে যোগ দেন সচিবালয় ইউনিটের চার কর্মীও। আধাঘণ্টা চেষ্টার পর গাছের মগডাল থেকে নামিয়ে আনা হয় বিড়ালটিকে। স্কাইলিফট দিয়ে বিড়ালটিকে নিচে নামিয়ে আনার ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে উপস্থিত অনেকেই। বিড়ালটিকে উদ্ধার করে সচিবালয়ের কর্মচারীদের একটি ক্যান্টিনে নিয়ে ভাত, মাছ ও পানি খেতে দেন উদ্ধারকর্মীরা। মাছের কাঁটা দেন কৃষিমন্ত্রীর গাড়িচালক আজগর আলী।

পরে জানা যায়, বিড়ালটিকে গাড়িতে করে বড় মগবাজারের বাসায় নিয়ে গেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সেখানে থাকা অন্য বিড়ালগুলোও নতুন অতিথিকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। পশুপ্রেমী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি বিড়াল মারা গেছে। নতুন বিড়ালটি বাসায় নেওয়ার পর একটি ঘরে রেখে দিয়েছি।’ বিড়ালটি রক্ষা পাওয়ায় এবং নিজের বাসায় নিয়ে যেতে পেরে মন্ত্রী ভীষণ খুশি বলেও জানা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘বিকেলে অফিস শেষ করে কৃষিমন্ত্রীকে নিয়ে ভবনের নিচে নেমে আসি। সেখানে বিড়ালটি দেখে পুরো ঘটনা বলি। বিড়ালের অবস্থা দেখেই কৃষিমন্ত্রী সেটিকে তাড়াতাড়ি গাড়িতে তোলার নির্দেশ দেন।’

মন্তব্য