সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দ্রুত বিহিত-331988 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দ্রুত বিহিত চায় দিল্লি

মেহেদী হাসান   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দ্রুত বিহিত চায় দিল্লি

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে সরব হয়েছে ভারত। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছে। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ওই তাগিদ দেন। ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে কট্টর অপশক্তির কর্মকাণ্ড মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশের প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও উদার চেতনা রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, এর আগেও বিশেষ করে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন বা হামলার বিভিন্ন ঘটনা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি করেছিল। ভারতের বর্তমান সরকারের জন্যও এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে সুষমা স্বরাজ এটি তুলেছেন। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ইতিবাচক অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন দুজনই। তাঁরা একে আরো সামনে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।

সূত্র মতে, বরাবরের মতো এবারও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ট্রানজিট, আঞ্চলিক সংযোগ নিয়েও কথা বলেছেন দুই মন্ত্রী। তবে এসবের পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে সফর বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা করেছেন মাহমুদ আলী ও সুষমা স্বরাজ।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে আগামী জুলাই মাসে সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে। তবে এ মাসের মাঝামাঝি কাঠমাণ্ডুতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আবারও বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ ও ভারতের উষ্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় গত জুন মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে। ওই সময় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে পাশে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। গত মাসেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ভারত সফর করেছেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরার আগে ২২ ফেব্রুয়ারি ওই দেশের আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দুটি বার্তায় পঞ্চগড়ে এক হিন্দু পুরোহিত হত্যায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যরা ওই হত্যা করে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আশা করি, সরকার (বাংলাদেশ সরকার) এ ধরনের ঘটনা ঠেকানোর উদ্যোগ নেবে।’

বাংলাদেশে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদেশি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ দেশীয় কোনো গোষ্ঠীর কাজ বলে দাবি করলেও প্রতিটি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের দায় স্বীকারের কথা পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এসব ঘটনার পরপরই কথিত দায় স্বীকার দাবিকে আমলে নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্ক বার্তাও হালনাগাদ করেছে।

মন্তব্য