জরুরি বিভাগেও মিলছে না সেবা-331983 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


খুলনায় চিকিৎসক ধর্মঘট

জরুরি বিভাগেও মিলছে না সেবা

খুলনা অফিস ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জরুরি বিভাগেও মিলছে না সেবা

চিকিৎসক ধর্মঘটে খুলনা জেলায় ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জরুরি বিভাগেও দেখা মিলছে না চিকিৎসকদের। চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে গতকাল পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করেছেন তাঁরা। হাসপাতালগুলোর স্টাফরা কোনোক্রমে কাজকর্ম চালিয়ে নিলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় চিকিৎসকদের এ আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা। ওদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করার পর আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্নি চিকিৎসকরা।

খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের ওপর রবিবার রাতে হামলা করেছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম ওহিদুজ্জামানের অসুস্থ স্ত্রীকে বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দিতে সম্মত না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জেলাব্যাপী পূর্ণদিবস ধর্মঘট কর্মসূচির ডাক দেয়। এক দিনের ধর্মঘট ডাকা হলেও হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে গতকাল বিএমএ নেতারা জানিয়েছেন।

ধর্মঘটের কারণে গতকাল খুলনা জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে দেখা মেলেনি চিকিৎসকদের। বেলা দেড়টার দিকে রূপসা বাইপাস সড়কে নসিমন-ইজিবাইক সংঘর্ষে আহত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন জামাল মোল্লা, হাফিজুর রহমান, আবু সাঈদসহ চারজন। একজন প্রাথমিক সেবা নিয়ে ফিরে গেলেও অন্য তিনজনের চিকিৎসা শুরু হয়নি। বিকেলে স্বজনরা জানান, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও, ডাক্তার রোগীদের দেখতে যাননি। মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি সাতক্ষীরা তালার জেঠুয়া এলাকার আরতী রানী। হৃদরোগে আক্রান্ত আরতীর স্বামী গণেশ দেশাই বলেন, ‘প্রতিদিন চিকিৎসকরা রোগীর খোঁজ নিচ্ছিলেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার কাউকে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।’ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছে দূরদূরান্ত থেকে আসা বেশকিছু রোগী। তাদের স্বজনরা কী করবে, কার সঙ্গে কথা বলবে, বুঝতে পারছে না। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালই নয়, প্রায় অভিন্ন চিত্র মিলেছে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও।

বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসকরা পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করেছেন। কিন্তু ঘটনার চার দিন পরও হামলাকারীরা আটক না হওয়ায় উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতিতে কোনো চিকিৎসকই সঠিকভাবে রোগীকে সেবা দিতে পারবেন না। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, হুমকি দিচ্ছে অথচ পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না। হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হলেই আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করব, অন্যথায় এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।’

তেরখাদা থানার ওসি শাহজাহান খান বলেন, ‘চিকিৎসক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। অভিযান অব্যাহত রেখেছি, কিন্তু আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা যায়নি।’

ময়মনসিংহে দুই হামলাকারী আটক : ময়মনসিংহ শহরের চড়পাড়া এলাকা থেকে গতকাল ভোরে পুলিশ রুবেল চন্দ্র (২৫) ও জসীম উদ্দিন (২৩) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, হামলাকারীদের দুজনকে আটকের পর কাজে যোগ দিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিৎসকরা। তাঁদের ডাকা অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মন্তব্য