kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন

এবার সাংবাদিকদের সামনে বাদীর সাক্ষ্য ফের জেরা ১০ মার্চ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার সাংবাদিকদের সামনে বাদীর সাক্ষ্য ফের জেরা ১০ মার্চ

সেলিনা ইসলাম বিউটি

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুটি মামলার মধ্যে এক মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনেই বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে অন্য মামলার বাদীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

 

গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এক মামলার বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা শুরু করেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ কারাগারে আটক থাকা ২৩ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নূর হোসেন, তারেক সাঈদ ও এম এম রানার পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা সময় প্রার্থনা করলে আদালত আগামী ১০ মার্চ অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুনের দুই মামলার মধ্যে একটির বাদী নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ের জামাই বিজয় কুমার পাল এবং অন্য মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিজয় কুমার পালের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাঁকে ব্যাপক জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। কিছু ক্ষেত্রে বিউটি ঠিকমতো জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে সহায়তা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন। তিনি আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দি ও মামলার সূত্র ধরে তথ্য প্রদান করেন।

এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আসামিরা পিপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পিপি সাহেব, তাহলে বাদীকে বসিয়ে আপনিই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যান। ’ তখন আসামিপক্ষের কয়েকজনও একই কথা বলেন। সে সময় নূর হোসেনসহ কয়েকজনকে নিঃশব্দে হাসতে দেখা গেছে।

জেরার একপর্যায়ে অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন, তিনি বিউটিকে বলেন, ‘আপনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়াম  চেনেন কি না?’ তখন বিউটি বলেন, ‘যেহেতু আমি নারায়ণগঞ্জের মেয়ে, সেহেতু অবশ্যই চিনব। ’ খোকন সাহাকে পাল্টা প্রশ্ন করে বিউটি বলেন, ‘একজন আইনজীবী মারা গেছেন। তাঁকে খুন করা হয়েছে। আর আপনি একজন আইনজীবী হয়ে কিভাবে এ মামলা করছেন? আপনি তো আপনার সহকর্মী আর ভাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছেন। সাত খুনের পর আপনি আমার বাসায় গিয়ে বলেছেন, সহায়তা করবেন। এখন আসামিদের পক্ষে কাজ করছেন। ’ এর জবাবে খোকন সাহা বলেন, ‘আমি আসলে এখন একজন আইনজীবী হিসেবে মামলায় সহায়তা করছি। ’

অ্যাডভোকেট এম এ রশিদ, যিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন, তিনি বিউটিকে বলেন, ‘আপনি কি দেখেছেন আপনার স্বামীসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়েছে?’ জবাবে বিউটি বলেন, ‘আমি যদি দেখতাম, তাহলে কি আর আমার স্বামীকে মারতে পারত? আর আপনি একজন আইনজীবী। যদি আজ আপনার বোন এ রকম স্বামীহারা হতো, তাহলে কেমন লাগত? আর আপনারা, আইনজীবী মারা গেল, সাতটি পরিবার নিঃস্ব হলো, অথচ আপনারা আসামিদের সহায়তা করছেন। ’

জবাবে এম এ রশিদ বলেন, ‘আমি একজন আইনজীবী হিসেবে মামলাটিতে সহায়তা করছি। ’

সাক্ষ্য দিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে বিউটি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার এজাহারে আমি যা যা লিখেছি, আদালতে তার বর্ণনা দিয়েছি। আমি সাত খুনের খুনিদের ফাঁসি চাই। আমার স্বামী নজরুল ইসলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলেন। আমার স্বামী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর নূর হোসেন জামায়াত-বিএনপি করত। নূর হোসেন ও তার লোকজন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, মাদক বিক্রিসহ নানা অপকর্ম করত। আমার স্বামী প্রতিবাদ করত। তাদের আদর্শের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের কারণেই নূর হোসেনের পরিকল্পনায় আমার স্বামীসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে। ’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


মন্তব্য