kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্ষকের সম্পত্তির অংশ পাবে জন্ম নেওয়া শিশুটি

ফেনী প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ধর্ষকের সম্পত্তির অংশ পাবে জন্ম নেওয়া শিশুটি

ফেনীতে প্রায় ১০ বছর আগে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং এতে জন্ম নেওয়া নবজাতককে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক নিলুফা সুলতানা এ রায় দেন।

দণ্ডিত আসামি হলেন ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে তৌহিদুল আলম সোহেল। তিনি বর্তমানে পলাতক।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ বণিক জানান, বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ৯(৩) ধারায় এই রায় দিয়েছেন। এই ধারায় উল্লেখ আছে, আসামির কোনো সম্পত্তি থাকলে তাঁর ওয়ারিশ হিসেবে ওই শিশু তাঁর সম্পত্তির অংশ পাবে।

জানা গেছে, আসামি গ্রেপ্তারের দিন থেকে রায় কার্যকর হবে। শিশুটির বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তাকে ভরণপোষণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারি কৌঁসুলি হাফেজ আহাম্মদ জানান, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ফেনী সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের সোহেল একই এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সন্তান জন্ম হওয়ার পর সোহেল তাকে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এমনকি তিনি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতেও অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে দুই দিন পর সোহেল, তাঁর ভাই সাহেদুল ইসলাম, রুবেল ইসলাম ও বোন মর্জিনা খাতুনকে আসামি করে ফেনী সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান।


মন্তব্য