সেই বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ-331167 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


নিজামীর খালাস চেয়ে চিঠি

সেই বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন

ওমর ফারুক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেই বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে নিরপরাধ দাবি করে তাঁর মুক্তি চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বাবুল আহমেদ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমোদন চেয়েছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদন দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বাবুল আহমেদের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খশিবন্দ কেয়াছায়া (বৈরাগীবাজার) গ্রামে। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে চিঠিটি পাঠান বাবুল। ১৭ জানুয়ারি তাঁকে বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বাবুল ডাকযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর চার পৃষ্ঠার ওই চিঠি পাঠান। তাতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিজামীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অন্যদের ফাঁসি না দিয়ে তাঁদের খালাস দিতে বলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, যদি নিজামী ফাঁসিতে ঝুলে মরে তবে আপনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) অনন্তকাল জাহান্নামে জ্বলবেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নানা কথা লেখা হয় চিঠিতে।

চিঠি পাওয়ার পর ৬ জানুয়ারি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, বাবুল দেশের প্রচলিত আইন, আদালত, সরকার, বিচারপতি এবং দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পুলিশ জানায়, চিঠি পাওয়ার পর পরই আদালত থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলা হয় পুলিশকে। গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। এর জের ধরেই বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর বাবুল চিঠি পাঠানোর সত্যতা স্বীকার করে জানান, চিঠিটি তাঁর নিজেরই লেখা। পরে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করি। বাবুল জামায়াতের অনুসারী।’

মন্তব্য