kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইন্টার্ন চিকিৎসককে লাঞ্ছনা

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট

জরুরি বিভাগে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহ মেডিক্যালে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট

বহিরাগতদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিচার দাবিতে এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক তালাবদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা।

পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া চিকিৎসকদের এমন ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এবং হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ১৫-২০ জন বহিরাগত হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। এ সময় সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লুত্ফা বিনতে কবীর সেতুর সঙ্গে বহিরাগতদের বাগিবতণ্ডা হয়। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক মাজহার এগিয়ে গেলে বহিরাগতরা তাঁকে লাঞ্ছিত করে। এতে করে হাসপাতালে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অন্য চিকিৎসক ও রোগীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। এই  পর্যায়ে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়।

এদিকে বহিরাগতদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এক জোট হয়ে হাসপাতালের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চেয়ার-টেবিলও ভাঙচুর করা হয়। এতে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের এমন আচরণে চরম বিপাকে পড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। জরুরি বিভাগের বাইরে রোগীর ভিড় জমে যায়। হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগীরাও ভোগান্তিতে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের বৈঠক শেষে জরুরি বিভাগের তালা খুলে দেওয়া হয়।

একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, হামলার বিচার তারাও চায়। কিন্তু অসহায় রোগীদের জিম্মি করে এ কেমন আন্দোলন। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করাকে সমর্থন করা যায় না।

এদিকে হাসপাতালের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় ওই সব বহিরাগতকে চিহ্নিত করা যায়নি। ওরা কোনো রোগীর স্বজন ছিল কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার শিকার ডা. মাজহার এ ব্যাপারে বলেন, ‘হামলাকারীরা বখাটে টাইপের। আরেকজন চিকিৎসকের সঙ্গে ওরা খারাপ আচরণ করছিল। এ সময় আমি এগিয়ে গেলে ওরা আমার ওপর হামলা চালায়। ’

বিএমএ ময়মনসিংহ শাখার সেক্রেটারি ডা. মতিউর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘রোগীদের স্বার্থে আমরা হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইন্টার্নদের সঙ্গে কথা বলছি। দ্রুতই বহিরাগতরা শনাক্ত হবে। ’

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সিদ্দিক বলেন, ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীদের শাস্তিসহ হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে’।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বহিরাগতরা চিকিৎসকদের মারধর করায় ইন্টার্নরা তালা ঝুলিয়ে দেয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় বহিরাগতদের চিহ্নিত করা যায়নি। তবে দ্রুতই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে। ’


মন্তব্য