এসেছে সাদা ‘অতিথি’-331163 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

এসেছে সাদা ‘অতিথি’

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এসেছে সাদা ‘অতিথি’

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে সিংহ শাবকের যত্ন নিচ্ছেন কিপার নুরুন্নবী মিন্টু। - ছবি : কালের কণ্ঠ

আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সিংহ দম্পতির সংসারে এসেছে নতুন অতিথি। মা সিংহী ও জন্ম নেওয়া শাবক দুটি সুস্থ রয়েছে। বাড়তি আনন্দের খবর হলো, সিংহ দম্পতির গায়ের রং ধূসর লাল হলেও শাবক দুটির গায়ের রং ধবধবে সাদা। সাদা প্রজাতির সিংহ পেয়ে সাফারি পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্যাপক উল্লসিত।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক রেঞ্জ কর্মকর্তা শিবু প্রসাদ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি। সাদা সিংহ পৃথিবীতে বিলুপ্তপ্রায়। তাই শাবক দুটি ২৬ দিন আগে জন্ম নিলেও সতর্কতা ও দর্শনার্থীদের উৎপাত এবং রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বাঘ ও সিংহের কিপার নূরুন্নবী মিন্টু দুই শাবককে লালনপালন করছেন। শাবক দুটি বড় হয়ে উঠছে, নিজেদের মধ্যে খেলাধুলায়ও মেতে উঠছে।’ তিনি জানান, নতুন দুই অতিথি জন্ম নেওয়ায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে সিংহের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮টি।

কিপার মিন্টু জানান, প্রসবের পর বেশির ভাগ সময় সিংহী নিজে থেকেই দুধ খাইয়ে বাচ্চা লালনপালন করে। আবার ব্যতিক্রমও আছে। কোনো কোনো মা প্রসবের পর বাচ্চার কাছে যায় না, দুধও খেতে দেয় না। যেসব সিংহী শাবকদের দুধ দেয় না, সেসব শাবককে বিকল্প খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। নতুন মা সিংহী সন্তান প্রসবের পর দুই দিন বাচ্চা নিয়ে খাঁচার বাইরে অবস্থান করে। তৃতীয় দিন দুপুরে সে দুই শাবককে খাঁচায় এনে রাখে। কিন্তু পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সিংহী শাবকদের দুধ খেতে দিচ্ছে না। এমনকি ধারেকাছেই যাচ্ছে না। পরে শাবক দুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাণী হাসপাতালে রাখা হয়। হাসপাতালে আনার পর প্রথমে দেশীয় গুঁড়া দুধ তরল করে বোতলে করে খেতে দেওয়া হয়। পরে ওদের জন্য আনা হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা বিশেষ কোকোক্যাট দুধ। এখন প্রতিটি শাবককে প্রতিবার ৭৫ মিলিগ্রাম করে দৈনিক আটবার কোকোক্যাট দুধ খেতে দেওয়া হচ্ছে।

মিন্টু আরো জানান, একটি শাবক একটু মোটা। তিনি এটির নাম রেখেছেন ‘বুশ’। অন্যটির নাম দিয়েছেন ‘হিটলার’। বয়স তিন মাস হলে দুধের পরিবর্তে ওদের সিদ্ধ করা মাংস খেতে দেওয়া হবে। বয়স ছয় মাস হলে তাদের খাঁচায় দেওয়া হবে। আর বয়স তিন বা সাড়ে তিন বছর হলে ওদের খাঁচা থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কারণ এর আগে উন্মুক্ত স্থানে গেলে ওরা পূর্ণ বয়ষ্ক সিংহদের সঙ্গে পেরে উঠবে না। লড়াই করতে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাফারি পার্কের হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শাবক দুটি কিপার মিন্টুর সঙ্গে খেলছে। এই লাফ দিয়ে তার কোলে উঠছে, আবার নেমে পা জড়িয়ে আদর করছে।

সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাত মোহাম্মদ জুলকারনাইন (মানিক) জানান, ধূসর লাল সিংহ দম্পতির শাবকও একই ধরনের হওয়ার কথা। তবে জেনেটিক কারণে শাবকের গায়ের রং পরিবর্তিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। পৃথিবীতে বর্তমানে সাদা সিংহ দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দুটিসহ পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকটি সাদা সিংহ রয়েছে। দুই মাস আগে পার্কে অন্য একটি আফ্রিকান সিংহী তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চা তিনটির মধ্যে দুটি ছিল সাদা। নতুন দুটিসহ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে সাদা সিংহের সংখ্যা দাঁড়াল ছয়টিতে।

ডা. মানিক আরো জানান, পূর্ণবয়ষ্ক সিংহী সন্তান জন্মের দুই মাসের মধ্যে পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারে। গর্ভধারণের সাড়ে তিন মাসের মধ্যে বাচ্চা প্রসব করে। ওরা একসঙ্গে দুটি থেকে চারটি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে থাকে।

পার্কের ফরেস্টার কমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, সাফারি পার্কে বর্তমানে ছুটির দিনে ৫০ থেকে ৬০ হাজার এবং অন্যান্য দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শনার্থী আসে। জীবাণুবাহিত রোগ ও শাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি এ কয়েক দিন গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, আরো একটি সিংহী, একটি বাঘ ও একটি জিরাফ সম্প্রতি বীজ ধারণ করেছে। তাদের গর্ভধারণের আলামত পাওয়া গেলে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বন বিভাগ গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় প্রায় তিন হাজার ৬৯০ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য