‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ইউপিতে-331162 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ইউপিতে নতুন নির্বাচন চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ইউপিতে নতুন নির্বাচন চায় বিএনপি

ছাত্রলীগ-যুবলীগের বাধায় বিএনপির দেড় শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ বিএনপির। যার বেশির ভাগ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তাই সেসব এলাকায় নতুন করে নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র হাতে যাঁরা নির্বাচন অফিসে যেতে চেয়েও পৌঁছতে পারেননি, সেই সব ইউপিতে নির্বাচন নতুন করে করা হোক। আমরা দাবি করছি, যেসব জায়গায় যাঁরা জোর করে একক প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব ক্ষমতা দিয়ে নতুন করে সেখানে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া করুক।’

দেখবে—এই উপলব্ধি থেকে তারা মনে করছে, এটা একটা ভীতির কারণ। মানুষকে সরকার ভয় পায়।’

সরকারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করে সোমবার সংসদে দুটি জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওই দুই সম্পাদকের সঙ্গে উনাদের বেশ খাতির ছিল। হঠাৎ করে এই সম্পর্কে ছেদ পড়ল কেন, আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা বলতে চাই, ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে, তবে সেখানে আইনও আছে, সে আইনে ভিন্নমত যদি বেআইনি হয়, তাহলে তার বিচার হতে পারে। কিন্তু আজকে এগুলো বলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা, সাংবাদিকদের ইচ্ছায়, তাঁদের লেখায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার যে অপচেষ্টা, পরোক্ষভাবে তা জনগণকে দমানো।’

নোমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। ডিজিএফআই কে? ডিজিএফআই কাদের আন্ডারে? এই সরকারের, এই প্রধানমন্ত্রীর। তার পরও প্রধানমন্ত্রী যদি এ ধরনের কথা বলেন, তাহলে আমরা যারা আমজনতা আমরা সেখানে কী চিন্তা করব, কী বুঝব—আমি সেটা জানি না।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসার, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

এদিকে গতকাল বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দলীয়করণ বন্ধের প্রতিবাদে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের চাকরি বাঁচানোর জন্য বোবা-কালা হয়ে গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ফলে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের এবং গণমাধ্যমের কোনো অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। সরকারি দলের এ ধরনের অদ্ভুত, অভিনব, ভুতুড়ে কাণ্ডে নির্বাচন কমিশন তাদের সহযোগিতা করছে।’

মন্তব্য