kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উত্তরায় গ্যাসলাইনে আগুন

সুমাইয়াকে সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুমাইয়াকে সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

রাজধানীর উত্তরায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণজনিত আগুনে পোড়া গৃহবধূ সুমাইয়া বেগমকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সুমাইয়া।

স্বজনরা জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে দুই দিন ধরে তিনি কথা বলছেন। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চিন্তা করছেন তাঁরা।

সিটি হাসপাতালেই রবিবার থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে সুমাইয়ার একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান জারিফ। ১১ বছরের শিশুটি শারীরিকভাবে শঙ্কামুক্ত, তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সোমবার মুঠোফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সুমাইয়া। গতকাল মা-ছেলের দেখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে রান্নাঘরের গ্যাসলাইনে আগুন ধরে গেলে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজের পরিবারের পাঁচ সদস্য দগ্ধ হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। শুক্রবারই মারা যায় তাঁর দুই ছেলে সারলিন (১৫) ও জায়ান (১৪ মাস)। শনিবার সন্ধ্যায় মারা যান শাহনেওয়াজ।

সুমাইয়ার খালাতো ভাই খিরকিন নেওয়াজ জানান, উন্নত চিকিৎসার আশায় সুমাইয়াকে সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেবেন বলেও ভাবছেন তাঁরা।

শাহনেওয়াজের ছোট ভাই কামরুল আহসান জানান, গত সোমবার থেকে কথা বলতে পারছেন তাঁর ভাবি। সন্তানদের ও স্বামীর কথা জানতে চান তিনি। তাঁকে বলা হয়, তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে তাঁর মতোই দগ্ধ হয়েছে। মেজো ছেলে অনেকটাই ভালো আছে। এরপর তাঁকে জারিফের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

গতকাল বিকেলে সিটি হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে দেখা হয় জারিফের। সে সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেলেন মা; আর ছেলের চোখ বেয়ে নামছিল জলধারা।


মন্তব্য