ভাড়াটিয়াদের তথ্য ১৫ মার্চের মধ্যে-330724 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


ভাড়াটিয়াদের তথ্য ১৫ মার্চের মধ্যে চায় ডিএমপি

‘জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে পুলিশকে সহযোগিতা না করলে ব্যবস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভাড়াটিয়াদের তথ্য ১৫ মার্চের মধ্যে চায় ডিএমপি

রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে সব বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম পূরণ করে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে থানায় জমা দিতে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে করা এ কাজে পুলিশকে সহযোগিতা না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার ডিএমপির জনসংযোগ দপ্তরে ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মানুষ মনে করছে, আমার তথ্য আমি পুলিশকে দেব, পরে আবার না কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়।

প্রকৃতপক্ষে মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিরাপদ ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সহায়তায় যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে তা সুরক্ষিত থাকবে। এ নিয়ে কেউ বিড়ম্বনার শিকার হবে না। এই তথ্য আর কেউ পাবে না। অন্য কোনো কাজে এই তথ্য ব্যবহার করা হবে না।’

মহানগরবাসীর উদ্দেশে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ইতিমধ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে রাজধানীর সব বাসায় ফরম পাঠানো হয়েছে। যারা এখনো ফরম পায়নি, তারা থানায় যোগাযোগ করে ফরম সংগ্রহ করবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ পুলিশকে বিশ্বাস করতে চায় না। কারণ পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রকৃত যোগাযোগ নেই। তবে আমরা (পুলিশ) যদি প্রতিটি কাজে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে এই দূরত্ব কমে আসবে। আমরা বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ও নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা, বোমা তৈরির কারখানা, মাদক, সামাজিক অপরাধ, ছিনতাই ও ইভ টিজিংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গত নভেম্বর  থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে মহানগর পুলিশ। এক পৃষ্ঠার যে ফরম ভাড়াটিয়াদের দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ভাড়াটিয়ার ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও গাড়িচালকের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপি কমিশনার দাবি করেন, জঙ্গিসহ অন্য অপরাধীরা মিথ্যা নাম ও ঠিকানা দিয়ে দু-তিন মাস আগে বাসা ভাড়া নেয়। অপরাধের পর তারা আবার অন্যত্র চলে গিয়ে একই কায়দায় বাসা ভাড়া নেয়। তাই একজন সুনাগরিকের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে পুলিশকে আইনি কাজে সহায়তা করা। ‘সিআরপি’র ৪২ ধারা অনুযায়ী পুলিশকে সহায়তা করতে প্রতিটি নাগরিক বাধ্য। বাসার মালিকরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৪২ ধারা অনুসারে জনগণের কাছে অপরাধী গ্রেপ্তার ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সাহায্য চাইলে জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বস্তুত জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া পুলিশিং কার্যক্রমে সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। 

ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, ‘ভাড়াটিয়া চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে অবহিত করা এবং নতুন ভাড়াটিয়া এলে একই নিয়মে ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিট অথবা থানায় জমা দেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করা হলো। বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, স্থাপনার মালিক ও ভাড়াটিয়াদের চলাফেরা, কার্যক্রম এবং আচরণ সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। কোনো ব্যত্যয় দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে হবে।’

মন্তব্য