kalerkantho


কোচিংবাজ ৫০৬ শিক্ষককে শোকজ করা হচ্ছে

আজিজুল পারভেজ    

২২ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০



কোচিংবাজ ৫০৬ শিক্ষককে শোকজ করা হচ্ছে

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক প্রদক্ষেপ হিসেবে ৫০৬ জন শিক্ষককে শোকজ করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাউশি। এর অংশ হিসেবে প্রথমে অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান। তাঁদের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যাতে ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পড়ান সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়া শিক্ষকদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি করাও হতে পারে।
জানা যায়, সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে একটি অনুসন্ধান চালায়। সারা দেশে ৩২২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্য থেকে ১০৯টি বিদ্যালয়ে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ৫০৬ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই গোয়েন্দা সংস্থা অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকাসংবলিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন কয়েক মাস আগে সরকারের কাছে দাখিল করে।
ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এনামুল কাদের খান স্বাক্ষরিত একটি পত্র সোমবার মাউশির মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। এতে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য সরকার ২০১২ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। এই নীতিমালা অনুসারে কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা কোনো কোচিং সেন্টারের সঙ্গে কোনো শিক্ষক প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। কোনো শিক্ষক কোচিং করার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে প্ররোচিত করতে পারবেন না।  
কিন্তু বাস্তবে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকরা এই নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা করছেন না। নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করছেন। যারা কোচিং করে না তারা ভালো ফলাফলও করতে পারছে না। অসহায় অভিভাবকরা কোচিংবাজ শিক্ষকদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ফলে কোচিংবাজ শিক্ষকরা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছেন।
একসময় কঠিন বিষয় হিসেবে পরিচিত গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ত। কিন্তু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষার্থীরা শুধু গণিত আর ইংরেজিই নয়, রসায়ন, পদার্থ, জীববিদ্যা, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলা, ভূগোল এমনকি শারীরিক শিক্ষা, ধর্ম, সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়েও কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী ‘অভিভাবক ফোরামের’ সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু কোচিং প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ানো কিংবা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর ব্যাপারে সরকারি নীতিমালায় যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কেউ মানছেন না। আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে অবাধে কোচিং বাণিজ্য চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ’

মন্তব্য