kalerkantho


স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরী

চালু কারখানা বন্ধ দেখিয়ে অন্যের নামে প্লট বরাদ্দ

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



চালু কারখানা বন্ধ দেখিয়ে অন্যের নামে প্লট বরাদ্দ

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির বিসিক শিল্পনগরীতে আট বছর ধরে চালু থাকা কারখানা ‘মেসার্স রাশিদা নকশা অ্যান্ড ফার্নিচার’কে বন্ধ দেখিয়ে ওই প্লট অন্য এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বিসিক কর্মকর্তার চাহিদা পূরণ না করায় এবং নতুন বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির কাছে প্রভাবিত হয়ে তাঁর (ব্যবসায়ী) প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

সরেজমিন কৌরিখাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট ব্যবসায়ী সেলিম বাহাদুর বিসিক শিল্পনগরীতে ‘মেসার্স রাশিদা নকশা অ্যান্ড ফার্নিচার’-এর নামে একটি প্লট বরাদ্দ পান। এর নম্বর এ-০১ দক্ষিণাংশ, জমির পরিমাণ সাত হাজার ৫০০ বর্গফুট। পরে সেলিম ওই প্লটের জলাশয় নিজ খরচে ভরাট করে সেখানে কারখানা তৈরি করে কর্যক্রম শুরু করেন। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন বিসিক কর্মকর্তা গোবিন্দচন্দ্র সরকার চালু কারখানা মেসার্স রাশিদা নকশা অ্যান্ড ফার্নিচারকে বরাদ্দ প্লট বাতিলের নোটিশ দেন। সেলিম বিসিক কর্মকর্তার কাছে নোটিশের কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টা সমাধান করবেন এবং এটা নিয়ে কারো সঙ্গে যোগাযোগ না করতে বলেন। তিনি সেলিমকে কারখানা চালু রেখে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বাসুদেব আচার্য্য শিল্পনগরী পরিদর্শনে এলে সেলিমসহ প্লট বরাদ্দ বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা তাঁর কাছে প্লট বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। যুগ্ম সচিব তাঁদের লিখিত আবেদন করতে বলেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সেলিমসহ অন্যরা বিসিক কার্যালয়ে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে অন্য সবার প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করলেও অজ্ঞাত কারণে সেলিমের প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সেলিম বর্তমান বিসিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাগজে আপনার কারখানার কর্যক্রম বন্ধ দেখানো হয়েছে। তাই আপনার প্লটটি ‘মেসার্স স্বরূপকাঠি গ্যাস স্টোভ অ্যান্ড ফাউন্ড্রি’-এর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

ব্যবসায়ী সেলিম অভিযোগ করেন, আগের বিসিক কর্মকর্তা গোবিন্দচন্দ্র সরকারের দাবীকৃত অবৈধ চাহিদা পূরণ না করায় তিনি কাগজে সেলিমের চালু কারখানাটা বন্ধ দেখিয়ে অন্য ব্যবসায়ীকে প্লটটি বরাদ্দ দেন। পরে সেলিম গোবিন্দচন্দ্রের কাছে গেলে তিনি বলেন, ওপর মহলের চাপে সেলিমের প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সেলিম বলেন, বিসিকে যুগ যুগ ধরে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান না করে আবাসিক বাসা তৈরি করে যাঁরা ভাড়া তুলছেন, তাঁদের প্লট বরাদ্দ বাতিল না করে অন্যায়ভাবে তাঁর চালু কারখানাকে বন্ধ দেখিয়ে প্লট বাতিল করা হয়েছে। এই প্রতিবেদক বিসিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, মেসার্স রাশিদা নকশা অ্যান্ড ফার্নিচারে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এ সময় পপুলার স মিলের স্বত্বাধিকারী সুলতান মাহমুদ ও ডিএল ইন্ডাস্ট্রিজের কারিগর মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মেসার্স রাশিদা নকশা অ্যান্ড ফার্নিচার চালু রয়েছে; এটা কখনো বন্ধ ছিল না।

বিসিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, তাঁর পূর্বসুরি গোবিন্দচন্দ্র সরকার দায়িত্বে থাকাকালে ওই কারখানা বন্ধ দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্লট বাতিলের প্রস্তাব করেন। তাই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অফিসের কাগজপত্র অনুযায়ী কারখানাটি বন্ধ, তবে তিনি তিন বছর ধরে এখানে কর্মরত অবস্থায় কারখানাটি ভালোভাবেই চালু দেখছেন।

 



মন্তব্য