kalerkantho


রাজাপুরে খাল ভরিয়ে বাজার সম্প্রসারণ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে প্রবহমান একমাত্র খালটি ভরাট করে চলছে বাজার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ। ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন বাজার কমিটির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর।

কাজ শুরুর পর থেকে এরই মধ্যে খালের বেশির ভাগ ভরাট করে বাজার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এখন চলছে খালে ঘাটলা নির্মাণকাজ। তা ছাড়া খালে পাইলিং বসিয়ে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হয়েছে। খালের অপর প্রান্তে চর দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি এভাবে দখলের ফলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খাল থেকে পানি ব্যবহারকারী কৃষক, জেলেসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ধানসিঁড়ি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজাপুর খালটি জাঙ্গালিয়া নদী হয়ে বিষখালী নদীতে মিশেছে। জাঙ্গালিয়া অংশে কিছুটা নাব্যতা থাকলেও রাজাপুর সদরের মধ্যে প্রবাহিত এক কিলোমিটার খাল দখলের কারণে এখন শীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। পাঁচ বছর আগেও এ খালের প্রস্থ ছিল ১০০ মিটারের বেশি।

রাজাপুর বাজারের বাসিন্দা সমীর হুদা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা এভাবে খাল দখল হলে উৎসাহী হবে অন্য দখলবাজরাও। এতে স্থায়ীভাবে খালটির মৃত্যু হবে। পরে কৃষি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে রাজাপুর সদর জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।’

এ খালের পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করেন হাজারো কৃষক। উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘রাজাপুর খালের পানি ব্যবহার করে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা হয়। খালে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের তরমুজ ও ভুট্টা চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ স্থানীয় জেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এ খালে মাছ ধরে আমার সংসার চলত; কিন্তু এখন খালে পানি না থাকায় নৌকাও চলে না, মাছও পাওয়া যায় না। তাই পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালাচ্ছি।’

ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় রাজাপুর বাজারে দুটি একতলা ভবন, খালে একটি ঘাটলা ও খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এ জন্য এক কোটি আট হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন মজিবর বলেন, ‘এলজিইডির নকশা অনুযায়ী ভবন ও ঘাটলা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি শুধু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছি।’

জানতে চাইলে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ বেগম পারুল বলেন, ‘খালে যে পাইলিং দেওয়া হয়েছে তা ঘাটলা নির্মাণ শেষ হলে সরিয়ে নেওয়া হবে। তার পরেও যদি খালের পানিপ্রবাহ ও নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে ঘাটলা অপসারণ করা হবে। এ ছাড়া অবৈধ দখল উচ্ছেদে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’

 


মন্তব্য