kalerkantho


বিআরটিসির দূরপাল্লার বাসে ভোগান্তি

যাত্রীর দ্বিগুণ পণ্য বহন

বরিশাল অফিস   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



যাত্রীর দ্বিগুণ পণ্য বহন

বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বিআরটিসির দূরপাল্লার বাসগুলোতে ভাড়ায় অতিরিক্ত পণ্য বহন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দূরপাল্লার ১৫ রুটের অন্তত ১০টিতে মাছ ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহন কর হয়। কখনো কখনো এসব পণ্যের ওজন নির্ধারিত যাত্রীর ওজনের দ্বিগুণ হয়ে থাকে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বিআরটিসি বরিশাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে খুলনা, বগুড়া, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, মাওয়া, বরগুনা, পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, আমতলী, তালতলীসহ ১৫টি দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করে বিআরটিসি। এ রুটগুলোর মধ্যে বরগুনা, পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, আমতলী ও তালতলী রুটে যাত্রীর পাশাপাশি মাছ বহন করা হয়। সে জন্য দ্বিগুণ অর্থ নেয় তারা। অন্যদিকে খুলনা, রংপুর ও বগুড়া রুটের গাড়িগুলোতে বিভিন্ন মালপত্র পরিবহন করা হয়।

বরিশাল থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রী আশফাকুল ইসলাম ইমন বলেন, সকাল ৭টার গাড়িতে ওঠেন তিনি। ওই গাড়িতে এম ই পি নামের একটি ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৫০টিরও বেশি কার্টন বরিশাল কাউন্টার থেকে তোলা হয়েছে।

এ জন্য যাত্রা শুরু করতে আরো এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। এরপর গোপালগঞ্জে গাড়ি থামিয়ে ওই মালপত্র ডেলিভারি দেওয়া হয়। এতে আরো এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। তা ছাড়া ওই মালপত্র বাসের ভেতর ও ছাদে নেওয়ার কারণে পুরো যাত্রাপথে সবাইকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় কুয়াকাটা থেকে বরিশালে বিআরটিসি বাসে আসা যাত্রী অবদুল আলীম শুভর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গিয়েছিলাম সমুদ্র ভ্রমণ করতে। তবে বিআরটিসি বাসে ফেরার কারণে সব আনন্দই মাটি হয়ে গেছে। বাসে প্রচুর মাছ নেওয়া হয়েছে। মাছের দুর্গন্ধে বেশ কয়েকজন যাত্রী বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে মাছের পানি গায়ে পড়ায় যাত্রীদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়, বরিশাল থেকে খুলনা, রংপুর, কুয়াকাটা, বরগুনা ও আমতলী রুটের বিআরটিসি বাসের কয়েকজন গাড়িচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা মাঝেমধ্যে পণ্য পরিবহনের কথা স্বীকার করেন। তবে পণ্য নেওয়ার বিষয়টি বিআরটিসির রুট সুপারভাইজার থেকে শুরু করে অনেক কর্মকর্তা জানেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

বিআরটিসি বরিশাল অঞ্চলের দূরপাল্লার রুট পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের গাড়িতে মালপত্র বহন করার কোনো নিয়ম নেই। তবে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করা যাবে। এর বাইরে যদি কোনো গাড়ি পণ্য বহন করে তবে তা বেআইনি। আমরা গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করতে চেষ্টা করব।’

বিআরটিসি বরিশাল অফিস ব্যবস্থাপক মো. জামিল হোসেন বলেন, ‘বিআরটিসি শুধু যাত্রীসেবা দেওয়ার জন্য। এখানে পণ্য পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কোনো চালক বা সুপারভাইজার পণ্য পরিবহন করে যাত্রীসেবা বিঘ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য