kalerkantho


ঝালকাঠির গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী

ঘুষ দিলেই কাজ মেলে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঝালকাঠির গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্ন দরদাতাকে এড়িয়ে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ বণ্টন করছেন তিনি। ঘুষ দিলেই কাজ পাওয়া যায় তাঁর দপ্তরে। সঠিক প্রক্রিয়ায় দরপত্র জমা দিলেও এখানে তার মূল্যায়ন নেই।

নির্বাহী প্রকৌশলীর এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। কামাল শরীফ নামের এক ঠিকাদার সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় আদালতের বিচারক এস এম নুরুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদকে কারণ দর্শাও নোটিশ করেন। তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।

ঠিকাদারের অভিযোগে জানা যায়, ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ থেকে গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার সাতটি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংস্কারের জন্য এক লাখ টাকা, জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন সংস্কারে চার লাখ, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক নির্মাণে এক লাখ ৭০ হাজার, সার্কিট হাউসের দেয়াল বর্ধিতকরণে ১৯ লাখ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রঙের কাজে এক লাখ ৫০ হাজার, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণে ১৩ লাখ ও আনসার ভিডিপির ব্যারাক নির্মাণে ২২ লাখ টাকার কাজ রয়েছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ধার্য করা হয়। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজগুলো দিয়েছেন। সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও মেসার্স এমপি বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল শরীফকে কাজ দেওয়া হয়নি। প্রথমে বিষয়টি গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চান কামাল শরীফ। নির্বাহী প্রকৌশলী ওই ঠিকাদারকে এ ব্যাপারে পরে কথা হবে বলে জানান। এভাবে একাধিকবার তাঁর কাছে গেলে একই কথা বলে বিদায় দেন ঠিকাদারকে। শেষে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই ঠিকাদার ঝালকাঠির যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গণপূর্তের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন।

ঠিকাদার কামাল শরীফ বলেন, ‘আমি সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজগুলো পাইনি। নির্বাহী প্রকৌশলী অন্যদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অনৈতিকভাবে কাজ দিয়েছেন। এখন আদালত বিষয়টির সুরাহা করবেন।’ এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঠিকাদার কামাল শরীফ ভুল তথ্য দিয়ে আদালতে অভিযোগ করেছেন। তিনি দরপত্রে ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দিয়েছেন বলে কাজ পাননি।’


মন্তব্য