kalerkantho

তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল

আতঙ্কের জনপদ

ভোলা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কিছু দিন আগেও ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেলে নিরাপদে কৃষক চাষাবাদ করতেন, রাখালরা গরু চরাতেন আর জেলেরা ধরতেন মাছ। চরটি এখন এক আতঙ্কের জনপদ। অত্যাচার, চাঁদাবাজি আর অপহরণের ভয়ে চর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ৯ জন কৃষককে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় চরবাসী আরো শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর উপকূলে আট হাজার মানুষের বসতি নিয়ে চর মোজাম্মেল। চারবাসীর অভিযোগ, এই চরে নতুন আতঙ্ক চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল দর্জি ও তাঁর ‘বাহিনী’। তারা একের পর এক ত্রাস সৃষ্টি করে চর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হেলালকে গ্রেপ্তারে ও চরে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে চর মোজাম্মেলবাসী। তারা চর রক্ষায় প্রশানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। ‘হেলাল বাহিনী’র বন্দিদশা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তি পাওয়া কৃষক নিরব, সাহাবুদ্দিন, মনির, আনোয়ার, দুলাল, হোসেন, নুরুল হক, শরীফ ও জাফর মাঝি (৪৭) এখনো আঁতকে ওঠেন নির্যাতনের কথা মনে করে। তাঁদের মধ্যে সাহাবুদ্দিনের কান কেটে দেয় হেলাল বাহিনী।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দস্যুরা আমাদের চর মোজাম্মেল থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে আমার কান কেটে দেয়।’ হামলায় আহত বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাফর মাঝির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, চরে থাকতে হলে চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় চর ছেড়ে যেতে হবে বলে হুমকি দেয় হেলাল বাহিনী। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ‘হেলাল বাহিনী’ বাঁ হাতে পেরেক ঠুকে নির্মম নির্যাতন করে কৃষক ফরিদকে। তিনি বলেন, চরে দস্যুতা ও চাঁদাবাজি করছে হেলাল বাহিনী।

চরের বাসিন্দা আব্দুর রবের স্ত্রী বিবি মরিয়ম বলেন, ‘দস্যুদের অত্যাচারে রাতে ঘুমাতে পারি না। নারী ও পুরুষরা রাতে জেগে থাকি।’ চরবাসী দুলাল ও আব্দুর রব জানান, পাঁচ বছর ধরে চরে কৃষিকাজ করে আসছেন তাঁরা; কিন্তু কখনো এমন অন্যায় হয়নি। এখন ‘হেলাল বাহিনীর’ অত্যাচারে কেউ শান্তিতে বাস করতে পারছে না। তাঁরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন চরে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকরুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পুরো চরে হেলাল দস্যুতা করে ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। চরের মানুষের শান্তি নষ্ট করছে এ বাহিনীর সদস্যরা। তাই তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

তবে হেলাল দর্জি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। তবে আমাকে চর থেকে উচ্ছেদ করতে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের লোকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে চেয়ারম্যান ফকরুল আলম জাহাঙ্গীরের লোকজন।’

তজুমদ্দিন থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, হেলাল দর্জিসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে আটক করেছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই হেলাল দর্জিকে গ্রেপ্তার করা হবে।


মন্তব্য