kalerkantho


ইন্দুরকানীতে নদীর বুকে ডুবোচর

জাহাজের গতি শম্বুক

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জাহাজের গতি শম্বুক

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর কচা নদীতে চরের কারণে নোঙর করে আছে তিনটি মালবাহী জাহাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপকূলীয় জনপদ পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কচা, বলেশ্বর ও পানগুছি নদীর বিভিন্ন স্থানে (পয়েন্ট) জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এখানকার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিক হা্রস পাওয়ায় ডুবোচরগুলো জেগে উঠেছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা যায়, নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠায় নির্দিষ্ট গতিপথ ছাড়া ভাটার সময় দেশি-বিদেশি বড় জাহাজগুলো চলাচল করতে পারছে না। নদীর বুকে একদিকে ডুবোচর, অন্যদিকে পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় উপকূলীয় নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হতে বসেছে।

পিরোজপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক বাণিজ্যের অন্যতম উৎস নদীপথ। এখানকার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল আমদানি-রপ্তানি মূলত নৌযানের মাধ্যমে করে থাকে। কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম মৌসুমে নদ-নদীতে পানি কমে চর জাগায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। ডুবোচরের পাশাপাশি তিন মাস ধরে এসব নদ-নদীর বুক কচুরিপানায় ঢেকে থাকায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে নৌযান চলাচলে। শুকনো মৌসুমে নদ-নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাপক কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ খালগুলো শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ফসলি জমিতে সেচ দেওয়ার মতো পানি মিলছে না খালগুলোয়। খরা মৌসুমে পুকুর, ডোবা-নালা প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানিরও তীব্র সংকট শুরু হয়েছে নদীবিধৌত এ অঞ্চলের মানুষের।

ঢাকা-পিরোজপুর-বরিশাল-মোংলা বন্দরের সঙ্গে ইন্দুরকানীর যোগাযোগের একমাত্র নদীপথ কচার বিভিন্ন স্থানে বিশাল বড় চর ও ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় পানি ভাটার সময় দেশি-বিদেশি বড় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। ভাটার সময় ছোটখাটো নৌযানও আটকা পড়ছে ডুবোচরগুলোতে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ইন্দুরকানীর সাউদখালী গ্রাম সংলগ্ন কচা নদীর মাঝখানে ১৯৩৯ সালে প্রায় ৫০০ একর জমি নিয়ে জেগে ওঠে বিশাল চর। এখানে প্রায় দুই দশক আগে গড়ে উঠেছে বসতি। চরটিতে প্রায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবার স্থায়ীভাবে বাস করছে। এর ঠিক এক কিলোমিটার দূরে চরখালী প্রান্তে কয়েক দশক আগে জেগে ওঠে আরেকটি বিশাল চর। সেখানে বসতি গড়ে না উঠলেও চাষাবাদ হচ্ছে। অন্যদিকে ‘মাঝের চর’-এর পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে তুষখালী বন্দরের কাছে কচা নদীর পাশেই হরিণপালা গ্রামের তীর ঘেঁষে রয়েছে বিশাল ‘জুইন্নার চর’। এখানে গড়ে উঠেছে হরিণপালা ইকো পার্ক। এই পার্কসংলগ্ন কচা নদীর মাঝখানে একটি বড় ডুবোচর জেগে উঠেছে। এর দুই কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পশ্চিম কলারণ গ্রামের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে পাঁচ-ছয় বছর আগে পানগুছি নদীতে আধাকিলোমিটারজুড়ে জেগে উঠেছে একটি চর। এ ছাড়া উপজেলার পাড়ের হাট মৎস্য বন্দরের খালের মোহনায় কয়েক বছর আগে একটি চর জেগে ওঠায় বিভিন্ন নৌযানসহ ফিশিং বোটগুলোকে খালের ভেতর দিয়ে বন্দরে ঢুকতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এর এক হাজার মিটার দূূরে কচা ও বলেশ্বর নদের মোহনায় টগড়া ফেরিঘাট এলাকার দক্ষিণ প্রান্তে দু-তিন বছর ধরে জেগে উঠছে একটি চর। পাশাপাশি বলেশ্বর নদের ওপর নির্মিত শহীদ ফজলুল হক মনি সেতুর উত্তর প্রান্তের তীর ঘেঁষে প্রায় আধাকিলোমিটারজুড়ে জেগে উঠেছে একটি চর।

ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যিক এ নদীপথে নির্বিঘ্নে দেশি-বিদেশি জাহাজ চলাচলের জন্য এর নাব্যতা রক্ষায় সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাঈদ আহমদ বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি নদ-নদীতে নতুন নতুন ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। আর এ জন্য শীত-গ্রীষ্ম মৌসুমে নদ-নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশি-বিদেশি জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন হতে পারে।



মন্তব্য