kalerkantho


বরিশালে শতবর্ষী গাছ পানির দরে বেচা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে শতবর্ষী গাছ পানির দরে বেচা

শতবর্ষী মেহগনি, গগন শিরীষ (রেইনট্রি) ও চাম্বল মিলিয়ে ২০টি গাছ। দাম ২৫ লাখ টাকার বেশি। সেই গাছ বেচা হয়েছে দুই লাখ টাকায়। বেশির ভাগ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকিগুলো কাটার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গয়নাঘাটে এ অনিয়ম চলছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, জাইকার অর্থায়নে সওজের অধীনে পশ্চিমাঞ্চল অবকাঠামো সেতু উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গয়নাঘাটে ৬০০ মিটার জায়গার মধ্যে থাকা গাছগুলো অপসারণ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অনুযায়ী শত বছরের বেশি পুরনো ২০টি গাছ চিহ্নিত করে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ডিসেম্বরে দরপত্র ডাকে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া কার্যাদেশ অনুযায়ী, গয়নাঘাট গৌরনদী সেতুসংলগ্ন ছয় শ মিটারের প্যাকেজ নম্বর ১, লট নম্বর ২, এলআরপি ১২৩-এর এক থেকে ২০টি গাছ দুই লাখ দুই হাজার ৫৭ টাকায় বেচা হয়। এটি কেনেন গৌরনদী উপজেলার সওজ ঠিকাদার মো. মহসীন হাওলাদার। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে ঠিকাদার গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রাজ্জাক বেপারী নামে এক শ্রমিকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক গাছগুলো কাটা ও অপসারণের কাজ করছেন।

শ্রমিকরা জানায়, মহসীন হাওলাদারের কাছ থেকে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান ও আকবর আলী ১২ লাখ টাকায় গাছ কিনেছেন। তাঁরা ওই দুজনের শ্রমিক হিসেবে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক গাছ ব্যবসায়ী জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে এই গাছগুলোর বয়স ১০০ বছরের বেশি। গাছগুলো অনেক পুরনো বিধায় অত্যধিক মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বাজারে এই গাছের দাম ২৫ লাখ টাকার ওপরে হবে। কিন্তু সওজ কর্মকর্তারা ঠিকাদার মহসীনের কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপনে দরপত্র ডাকেন। এ কারণে নামেমাত্র ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নেন। লোক-দেখানো দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে মহসীনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় মো. নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘সওজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে অনৈতিক চুক্তির কারণে নামেমাত্র মূল্যে এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। গোপনে দরপত্র না ডেকে নিলাম ডাকা হলে বেশি লোকজন অংশ নিত। পাশাপাশি এই গাছগুলো ডাক উঠত ২৫ লাখ টাকার ওপরে। সেটি না হওয়ায় সরকার বিরাট রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. মহসীন হাওলাদার বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়েছি। অন্যদের চেয়ে আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় কার্যাদেশ পেয়েছি। এ অনুযায়ী গাছগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি।’

সওজ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (গৌরনদী উপজেলার দায়িত্বে) মো. আবু হানিফ বলেন, ‘সওজ বিভাগ বরিশালের কাজ হচ্ছে, গাছ চিহ্নিত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান। আমরা সেটা করেছি। এর পরে গাছ বিক্রির দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে আমাদের হাত থাকে না। দরপত্র আহ্বান করে সওজের নির্বাহী বৃক্ষ পালনবিদ।’

সওজের নির্বাহী বৃক্ষ পালনবিদ মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনে গাছ বেচার দরপত্র ডাকা হয়েছে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা মহসীন হাওলাদার হওয়ায় তাঁকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।’



মন্তব্য