kalerkantho


বরিশালে পানির পর পোকার হানা

সবজি চাষিদের মাথায় হাত

বরিশাল অফিস   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সবজি চাষিদের মাথায় হাত

গত বছর ৫০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছিলেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের কৃষক কবির। এ জন্য এবার ১০০ শতাংশ জমিতে লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, শিম ইত্যাদি সবজি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অর্ধেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে বাকি সবজি। ফলে তিনি ঘরে ফসল তুলতে পারেননি। তবে তিনি দমে যাননি। লোকসান গুনে আবার সবজির বীজ বপন করছেন জমিতে।

ঋণ করে ১৫০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করেছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়া এলাকার কৃষক শহিদ মিয়া।

জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে সবজির ক্ষতি হলেও তা কাটিয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর চাষের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, বেগুন ও লালশাক পোকার আক্রমণে বিনষ্ট হয়ে গেছে। ফলে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে শহিদকে। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা সাড়া না দেওয়ায় কৃষকদের এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।

কেবল কবির আর শহিদই নন, শীতকালীন সবজি চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে বরিশালের হাজারো কৃষককে। একাধারে দীর্ঘদিন বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি থাকায় অনেক কৃষক সবজি ঘরে তুলতে পারেনি। ফলে দ্বিগুণ লোকসান গুনে ফের বীজ বপন করতে হয় তাদের। আর এই নতুন শাক-সবজিতে পোকায় আক্রমণের আশঙ্কা করছিল চাষিরা। এরই মধ্যে লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক ও পালংশাকে পোকা হানা দিয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগে গত বছর ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে আট লাখ টন শাক-সবজি (শীতকালে) উপাদিত হয়। এ বছর বিভাগের ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সে অনুসারে কৃষকদের মাধ্যমে সবজি চাষ করানোও হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল উপপরিচালক রমেন্দ্রনাথ বাড়ৈ জানান, এবারের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আর এফিড নামের একটি পোকা ফসলে আক্রমণ করে। তবে তাঁদের কর্মীরা সপ্তাহে চার দিন মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পরমার্শ দিয়ে থাকেন।



মন্তব্য