kalerkantho


বরিশাল সিটি নির্বাচনের আগাম প্রচারণা

হাসানাতপুত্র প্রকাশ্যে অন্যরা কৌশলে

বরিশাল অফিস   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হাসানাতপুত্র প্রকাশ্যে অন্যরা কৌশলে

আগামী মার্চে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিএনপি ও বাম সংগঠনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচারণা শুরু করেছেন।

এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুুল্লাহপুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন; কিন্তু দলটির অন্য দুই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর কনিষ্ঠ ভ্রাতা খোকন সেরনিয়াবাত সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

খোকন সেরনিয়াবাত সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। তবে তিনি গোপনে বরিশাল আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

একই অবস্থা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের। তিনি বিভিন্ন দিবসে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন না। বরিশালে এসে নিজ বাসভবনে বসে শুধু নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তাঁর ভাষ্য, দলীয় প্রধান যাকে মনোনয়ন দেবেন, তিনিই নির্বাচন করবেন। তাই মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁরা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাবেন না।

তবে বিএনপির বিষয়টি ঠিক উল্টো। তারা ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের ভয়ে এই মুহূর্তে প্রচারণা চালাচ্ছে না। যদিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তারা এর আগে বিজয় দিবসের বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে জানান দিয়েছে। তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার মেয়র নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরও মাঠে বিএনপির সক্রিয় তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরিন, জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়দুল চান ও বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামাল। তাঁরা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরিন বলেন, ‘আমাদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয় না। মাঠে নামলে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এনে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার পরও আমরা ভয় পাচ্ছি না। সিটি নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলে অবশ্যই বিএনপি অংশ নেবে। তবে মনোনয়নের বিষয়টি দলীয় চেয়ারপারসন নিশ্চিত করবেন। তিনি যাকে দেবেন, তিনিই নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখতে কাজ করছি। সব সময় মাঠেও থাকছি। এ কারণে বরিশাল আওয়ামী লীগ সুসংগঠিতও রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাচ্ছে আমি সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করি।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘বিএনপি সাধারণ মানুষের দল। এ দলের প্রার্থীকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেই তারা ভোট দেবে। গত সিটি নির্বাচনে বরিশালবাসী বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবীব কামালকে নির্বাচিত করে সেটি প্রমাণ করেছে। তাই গোপনে প্রচারণা চালানোর কিছু নেই।’

এদিকে গত ৫ ডিসেম্বর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। বরিশাল জেলা বাসদের নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব ডা. মণীষা চক্রবর্তীকে দলটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি প্রকাশ্যে প্রচারণা না চালালেও তাঁর কৌশলী কর্মসূচি চলছে।

এ ছাড়া ২২ ডিসেম্বর কমিউনিস্ট পার্টি দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। সংগঠনটির বরিশাল জেলা সভাপতি এ কে আজাদকে দলীয়ভাবে মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। তিনিও কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন।


মন্তব্য