kalerkantho


ব্রজেন দাস হওয়ার স্বপ্ন

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০



ব্রজেন দাস হওয়ার স্বপ্ন

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট এ কৃতিত্ব অর্জন করেন মুন্সীগঞ্জের কুচিয়ামোড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাঁতারু। থেমে থাকেননি সেখানেই। পুরো ক্যারিয়ারে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন ছয়বার। এর একটি ছিল বিশ্ব রেকর্ডও। ১৯৮৫ সালের সাফ গেমসটা তো নিজেরই করে নেন মুন্সীগঞ্জের আরেক সাঁতারু মোশাররফ হোসেন। সেবার পুলে তিনি ঝড় না তুললে মানই থাকত না বাংলাদেশের। পুরো সাফে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯টি সোনা, যেখানে মোশাররফ একাই জেতেন ৫টি। অর্থাত্ অর্ধেকের বেশি। তাই গেমসের সেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কারটা পান তিনিই।সেই সাফ গেমসে মোশাররফের সতীর্থ আবুল হোসেন ঢালীও মুন্সীগঞ্জের। জাতীয় সাঁতারে আট বছর বাটারফ্লাইয়ে মোশাররফের রেকর্ডটা ভাঙেন তিনিই।

তারপর অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশ সাঁতার যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। পিছিয়েছে মুন্সীগঞ্জ। আরেকজন ব্রজেন দাস, মোশাররফ বা ঢালী উঠে আসছে না সেখান থেকে। সেই ঝিমিয়ে পড়া সাঁতারকে আবারও জাগিয়ে তুলতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সুইমিং ফেডারেশন। ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’—নামে ৬৪ জেলাতেই চলছে নতুন সাঁতারু খোঁজার অভিযান। গত মাসে মুন্সীগঞ্জেও হয়ে গেছে এর আয়োজন। তাতে খুদে পাওয়া গেছে স্বপ্নবাজ খুদে অনেক সাঁতারু। তাঁদের কেউ হতে চান ব্রজেন দাস তো কারো চোখে মোশাররফ হওয়ার স্বপ্ন। মুন্সীগঞ্জ সুইমিং পুলে জাঁকজমকভাবে আয়োজিত হয় এই প্রতিযোগিতা। অংশ নেয় তৃণমূল পর্যায়ের ১১০ খুদে সাঁতারু। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৩০ জনই।

সাঁতার ফেডারেশেনের সহসভাপতি লায়লা নুর জানান, ‘এই প্রতিযোগিতা হবে ৬৪ জেলায়। এ থেকে ৮২০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। দ্বিতীয় বাছাইয়ে ১৬০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। তাদের দেওয়া হবে তিন মাসের প্রশিক্ষণ। পরে এখান থেকে বাছাই করা হবে ৬০ জনকে। তাদের দেওয়া হবে উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। যাতে আবার বাংলায় উঠে আসে ব্রজেন দাস ও মোশাররফরা। তাই ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জ দিয়েই শুরু হয়েছে আলোচিত এই প্রতিযোগিতা।’

ছেলেদের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে (১৮+) দ্বিতীয় হয়েছে ব্রজেন দাসের সিরাজদিখানের জুম্মান শেখ। তারপরও খুশ সে, ‘দ্বিতীয় হলেও আমি অনেক খুশি। আমার আনন্দ সার্থক হবে যদি ব্রজেন দাসের মতো ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে পারি। ব্রজেন দাসের সিরাজদিখানের ছেলে হিসেবে আমি ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে চাই।’

মেয়েদের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে (১৫-১৭) প্রথম হওয়া সদরের রানী আক্তার উজ্জ্বল করতে চায় মুন্সীগঞ্জের নাম, ‘আমাদের মধ্যে কেউ না কেউ আবারও ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেবে বাংলাদেশের সেই ব্রজেন দাসের নাম। সেটা না পারলেও আমাদের জেলার সাঁতারের সুনাম বাড়াতে চাইব আমি।’

মো. আমানউল্লাহ মুন্সীগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থা থেকে ছেলেদের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে (১৫-১৭) প্রথম হয়েছে। সে ধন্যবাদ জানাল উদ্যোক্তাদের, ‘সাঁতারের প্রতি আমার অনেক আগ্রহ। প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি একজন ভালো সাঁতারু হতে চাই। যাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছে তাঁদের ধন্যবাদ।’ মেয়েদের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে (১৩-১৪) প্রথম হওয়া শ্রীনগরের মেয়ে স্মৃতি রাজবংশীর স্বপ্ন, ‘সাঁতার কাটতে আমার খুব ভালো লাগে। ইচ্ছা আছে সাঁতার শিখে একজন বড় মাপের সাঁতারু হব। পরিবারের সবার সমর্থন পাচ্ছি আমি।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার মাহমুদুর রহমান পিএসসি জানান, ‘অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশ সব দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটসহ খেলাধুলায়ও বাংলাদেশ এগিয়ে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান সাঁতারু খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।’



মন্তব্য