kalerkantho


চীনের একটি মসজিদের দেয়ালে পুরো কোরআন

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চীন পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল দেশ। বর্তমানে সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দুই কোটি ৩০ লাখ। এ সংখ্যা অনেক আরব দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। এর প্রায় অর্ধেকেরই বসবাস জিনজিয়াংয়ে।

চীনের উত্তর-পূর্বে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। লাখো মুসলমানের দেখা মেলে উত্তরের চীনা সমতলভূমিতে। মুসলমানদের সবচেয়ে ঘনবসতি হচ্ছে পেইচিং ও তিয়ানজিনে।

নিংজিয়া ও পার্শ্ববর্তী হানসু প্রদেশে, এমনকি ছোট গ্রামগুলোতেও অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ দেখা যায়। বালক-বালিকারা মাদরাসাগুলোতে কোরআন শরিফ পড়ে, মুয়াজ্জিন মাইকে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেন। গানসু প্রদেশে হুই মুসলমানদের শক্ত ঘাঁটি লিনজুয়া ছোট মক্কা নামে পরিচিত। সেখানে প্রতিটি ব্লকেই মসজিদ রয়েছে এবং মেয়েরা বোরকা পরে চলাফেরা করে, এমনকি এখানকার সরকারি কর্মকর্তারাও ধর্মপ্রাণ ও কোরআন শরিফ পাঠ করেন।

বিভিন্ন মুসলিম দেশে টুপি ও পাগড়ি রপ্তানিকারী দেশ হিসেবে চীনের সুনাম রয়েছে।

বর্তমানে চীনে মসজিদের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। এসব মসজিদে ইমামের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এসব মসজিদে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনার ও গম্বুজ।

চীনের ক্যান্টন নগরীতে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদটি ‘মেমোরিয়াল মসজিদ’ নামে পরিচিত। চীনে কয়েকজন সাহাবির কবরও রয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চীনে মুসলমানের সংখ্যা অনেক। ধর্মের প্রতি তাঁদের আন্তরিকতাও অনেক বেশি। প্রতিবছর চীন থেকে প্রায় ১০ হাজার মুসলমান হজে যান। তাবলিগের কাজেও চীনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমন করেন; এমনকি টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর শতাধিক চীনা তাবলিগি সাথি অংশ নেন।

চীনের প্রাচীন অনেক মসজিদ পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান; তেমনি একটি মসজিদ হচ্ছে চীনের শিয়ান শহরের জামে মসজিদ। এই মসজিদের দেয়ালে আরবি ভাষায় পুরো কোরআন লেখা রয়েছে।

মসজিদটি ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে টংকার রাজবংশের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে, পরে মিং রাজবংশের রাজত্বকালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির দেয়াল ১২ হাজার বর্গমিটারের, যেখানে পবিত্র কোরআনের সব আয়াত লেখা রয়েছে। মসজিদটি চীনা স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। তবে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, আরবি বিভিন্ন অলংকরণ একে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে চীনা ও আরবি ভাষায় কোরআন লেখা আছে। ভেতরে আছে মসজিদের উপাদান যেমন—মিম্বর, মিহরাব, মূল নামাজের জায়গা ও মিনার; কিন্তু বাইরের রূপ পুরোপুরি চৈনিক।

শিয়ান শহরের মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়াদি এ মসজিদকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। শিয়ান তথা গোটা উত্তর-পশ্চিম চীনের মুসলমানদের জীবনে এ মসজিদের প্রভাব অপরিসীম।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক



মন্তব্য