kalerkantho


টমাস আর্নল্ডের ‘দ্য প্রিচিং অব ইসলাম’

ড. মোহাম্মদ আবদুল হাননান

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



টমাস আর্নল্ডের ‘দ্য প্রিচিং অব ইসলাম’

অমুসলিমদের লিখিত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত বই অথবা নবী (সা.)-এর জীবনী থেকে মুসলিমদের সতর্ক থাকার অনেক যুক্তি আছে। কারণ তারা ইসলাম ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে ১০টি ভালো কথা লিখে ১১ নম্বরে এমন একটি বিষয় জুড়ে দেবে, যা থেকে মুসলিমদের ঈমান চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। টমাস ওয়াকার আর্নল্ডের দ্য প্রিচিং অব ইসলাম সম্পর্কে একই কথা। আর্নল্ড বইটি ইসলামের গুণগান করার জন্য লেখেননি। মূলত খ্রিস্টান মিশনারিদের ইসলাম প্রচারের কায়দা-কানুন থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্যই তিনি এই গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। দুনিয়াজুড়েই রয়েছে খ্রিস্টান মিশনারিদের তৎপরতা, তবে যাঁরা মিশনারি সদস্য, তাঁরা পয়সার বিনিময়ে কাজটি করে যাবেন। তাঁরা রীতিমতো বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে কম্পানি আইনের মতো সব সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করেন।

পাশাপাশি মুসলিমদের ইসলাম প্রচার বা তাবলিগ করার বিষয়টি সম্পূর্ণই চাকরি-মানসিকতামুক্ত। বরং নিজেরটা খেয়ে, নিজেরটা পরে, ‘আখিরাতের কামাই’ হিসেবে মুসলিমরা তাদের নবী (সা.)-এর আমল থেকে কাজটা যেভাবে শুরু করেছিলেন, বর্তমানেও তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে একই কায়দায় একই রীতিতে চলছে কাজটা। আর এতে সম্পূর্ণতই আল্লাহ তাআলাকে রাজি-খুশি করাই প্রধান  উদ্দেশ্য।

দ্য প্রিচিং অব ইসলাম গ্রন্থের ভেতরে যাওয়ার আগে আমরা এর লেখক টমাস ওয়াকার আনর্ল্ড সম্পর্কে পাঠককে সামান্য ধারণা দেব। আর্নল্ডের জন্ম লন্ডনে, ১৮৬৪ সালের ১৯ এপ্রিল। সিটি অব লন্ডন স্কুলে শিক্ষাজীবনের শুরু হলেও পরে তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পড়েছেন, আবার পড়িয়েছেনও। ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৮৯৩) এবং লাহোর সরকারি কলেজে (১৮৯৮) তিনি অধ্যাপনা করেছেন। প্রখ্যাত কবি ইকবালকে পাশ্চাত্য দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট করেছিলেন এই আর্নল্ডই। আর্নল্ড পরে ব্রিটিশ সরকার থেকে ‘স্যার’ উপাধি পান। ১৯৩০ সালের ৯ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আর্নল্ড যখন ইসলাম প্রচারের ইতিহাস (দ্য প্রিচিং অব ইসলাম) লিখেছেন, তখনকার হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে নাকি মাত্র ২০ কোটি মুসলিম ছিল। আর্নল্ড কিসের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন তা তিনি বলেননি, তবে বর্তমানে বিভিন্ন খ্রিস্টীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ীই বিশ্বে মুসলিম  জনসংখ্যা দেড় শ কোটি। এই সংখ্যা বলে দেয়, ধর্ম পরিচয়ে মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ সময়ের দিক থেকে ইসলাম সর্বকনিষ্ঠ ধর্ম, অনুসারীর দিক থেকে বৃহৎ এক গোষ্ঠীর।

ইসলাম বিষয়ে অমুসলিম লেখক-গবেষকদের লেখালেখির একটা প্রবণতা এই যে বিশ্বে ইসলাম ছড়িয়েছে তলোয়ারের জোরে—এটা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে অনেক মুসলিম নামবিশিষ্ট লেখক-গবেষকও যাদের নামের অংশে ‘মুহাম্মদ’ এবং ‘ইসলাম’ শব্দও জুড়ে আছে, তারাও মনে করে ‘তলোয়ারের জোরেই ইসলাম বিশ্বে প্রচারিত হয়েছে’। আমাদের দেশে এমনও ইসলামিক রাজনৈতিক দল আছে, যারা মনে করে, ইসলাম শক্তির জোরেই দুনিয়ার দেশে দেশে প্রসারিত হয়েছিল। এসব ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল প্রকৃতপক্ষে ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রচারণাকেই শক্তি জুগিয়ে থাকে। ইসলাম যে তলোয়ারের জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তার বড় প্রমাণ তো আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশই। প্রায় ৫০০-৭০০ বছর লাগাতার দিল্লির মসনদে বসে শাসনকাজ চালালেও যেদিন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টীয় শক্তির কাছে মুসলিম শক্তি পরাজিত হলো, সেদিন দেখা গেল, মুসলিমরা ভারতে এক সংখ্যালঘিষ্ঠ জাতি। তাহলে মুসলিমদের  তলোয়ার ভারতে কোথায় ব্যবহৃত হলো!

আর্নল্ড লিখিত দ্য প্রিচিং অব ইসলাম (ইসলাম প্রচারের ইতিহাস) গ্রন্থটি মূলত খ্রিস্টান মিশনারিদের জন্য লিখিত একটি ‘ট্রেনিং মডিউল’। তবু ইসলাম কিভাবে প্রচার হয়েছে, তার বিবরণ তিনি সততার সঙ্গে দিয়েছেন—

‘কোনো ধরনের রাজশক্তির সাহায্য ও সমর্থন  অথবা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই মুসলিম মোবাল্লিগ বা ধর্ম প্রচারকরা নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস  মধ্যএশিয়া, আফ্রিকা, চীন দেশ ও  পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোতে বিস্তার ঘটাতে সমর্থ হন।’ [টি ডাব্লিউ আর্নল্ড : দ্য প্রিচিং অব ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, ২০১২, পৃষ্ঠা ২৪-২৫]।

অনুবাদক এখানে যে ‘মোবাল্লিগ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন তা ‘তাবলিগ’ শব্দের কর্তাবাচক শব্দ।

আর্নল্ড মুসলিমদের ‘এক হাতে তরবারি আর অন্য হাতে কোরআন’ প্রচারের এ প্রচারণাকে ‘অলীক কাহিনিরূপে অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘মুসলিম মোবাল্লিগ ও বণিকরা শান্তিপূর্ণভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামের বাণী বহন করে নিয়ে গেছেন’। [আর্নল্ড : দ্য প্রিচিং অব ইসলাম, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৭] এখানে ‘মোবাল্লিগ’ অর্থাৎ তাবলিগওয়ালা (প্রচারকর্মী) এবং বণিকদের কথা বিশেষ করে আলোচনা করা যায়। প্রাচীন বাংলায় আরব বণিকরাই এ দেশে ইসলাম বয়ে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁরাই বাংলাদেশ-ভারতে ইসলামকে জনগণের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন লেনদেন ও আচার-ব্যবহারের সৌজন্য দেখিয়ে (আরবিতে এটাকে বলা হয় মোয়ামেলাত-মোয়াশেরাত)। মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশা থেকে ‘তলোয়ারওয়ালা তুর্কিরা’ আসার আগ পর্যন্ত তাঁরাই ছিলেন ইসলাম প্রচারের মূল বাহিনী। সুতরাং বলা যায়, আর্নল্ডের এই পর্যবেক্ষণ যথাযথ ও ইতিহাসসিদ্ধ। যদিও লেখক বিচ্ছিন্নভাবে গজনির সুলতান মাহমুদের পুনঃপুনঃ অভিযান এবং আওরঙ্গজেবের কথিত নির্যাতন, হায়দার আলী ও টিপু সুলতানের জোর করে খতনা করার বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন। তবু তিনি বলেছেন, বাংলা ও উপমহাদেশের সর্বত্র ধর্মান্তকরণে ‘কোনো শক্তি প্রয়োগ করা হয়নি।’ ধর্মান্তকরণে যে প্রভাবটি কাজ করেছে, তা হলো ‘শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রচারকদের শিক্ষা ও আহ্বান।’ আর্নল্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৭৯]

তিনি এদের পরিচয়ও সুনির্দিষ্ট করেছেন। বলেছেন, ‘এরা হলো আরব বসতি স্থাপনকারী, যাদের পূর্ব-পুরুষরা সম্ভবত সমুদ্রপথে এসেছিলেন।’ [আর্নল্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৮০]।

অনেক ইতিহাসবিদ বঙ্গ-ভারতে ইসলাম প্রচার বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এ বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেন। ড. আকবর আলী খান এমন একজন ইতিহাসবিদ (তিনি মূলত অর্থনীতিবিদ), যিনি অধুনা বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে গবেষণা করছেন । তিনি বলেছেন যে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা স্থলপথেই এসেছেন, সমুদ্রপথে নয়। প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেশির ভাগ মুসলিম হানাফি মাজহাবের অন্তর্ভুক্ত, যদি সমুদ্রপথে আসা আরবদের দ্বারা তারা মুসলিম হয়ে থাকত, তাহলে বাংলাদেশে শাফি মাজহাবের মুসলিমের সংখ্যাধিক্য থাকত। আকবর আলী খান মাজহাব বিষয়টির কাল নির্ণয়ে ভুল করেছেন। মাজহাব ব্যাপারটি মুসলিমদের মধ্যে অনেক পরে এসেছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শুরুর দিকে এবং ইমাম শাফি (রহ.) খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শেষের দিকে তাঁদের মতাদর্শ তুলে ধরেন। কিন্তু বঙ্গে ইসলাম এসেছে আরো অনেক আগেই। খোদ নবী (সা.)-এর আগেই অর্থাৎ ইসলামের আবির্ভাবের অনেক আগেই আরব বণিকরা বাংলায় এসেছেন। ইসলাম আবির্ভাবের পর এই আরব বণিকরাই মুসলিম হয়ে (এখন আর বণিক নন) প্রচারক হিসেবে বাংলা-ভারতে আসতে শুরু করেছেন। তাই হানাফি-শাফি মাজহাব দিয়ে বঙ্গে কোন পথে ইসলাম প্রচারকরা প্রথম এসেছেন, তা নির্ধারণ করা যায় না। ইতিহাস এর অনেক আগের।

আর্নল্ডও এ ধরনের ইতিহাসবিদদের লক্ষ করেছেন এবং খেদের সঙ্গে লিখেছেন, ‘...মুসলমানদের সাধারণ ইতিহাস যাঁরাই লিখেছেন, সে লেখক দেশি হোন বা ইউরোপীয় হোন, তাঁরা সবাই লিখেছেন যুদ্ধ, অভিযান এবং রাজা-বাদশাহদের কৃতিত্বের ইতিহাস। তাতে তৎকালীন মানুষের ধর্মীয় জীবনের কোনো উল্লেখ নেই বললেই চলে।’ অতঃপর আর্নল্ড লিখেছেন, মুসলিমরা যখন অভিযানে বের হয়েছে, তখন ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এগিয়ে’ এসেছে, স্থানীয়দের এতে ‘পা কেঁপে’ উঠত। আর এর প্রতিক্রিয়ায় ‘প্রতিমা ত্যাগ করে নতুন ধর্ম গ্রহণ’ করে নিতে তারা দ্বিধা করত না। [আর্নল্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৮২]

আর্নল্ড আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণভাবে দেশি-বিদেশি কোনো ইতিহাসবিদের মধ্যে আমরা পাই না। আর তা হলো—প্রচারক মুসলিম বাহিনী ও শাসক মুসলিম বাহিনীর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা। শাসক মুসলিমরা ইসলাম প্রচারে বেশি কিছু করেননি; বরং তাঁদের কিছু কিছু বাড়াবাড়ি ইসলামের জন্য ক্ষতি বয়ে এনেছে। আর্নল্ড দিয়েছেন আরেকটি তথ্য,। তিনি বলেছেন, শাসক মুসলিমরা ‘ধর্মান্তরিত করার কাজের চেয়ে কর আদায়ের বিষয়টি অধিক চিন্তা করতেন।’ [আর্নল্ড পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৮৩]

আর্নল্ডের এ পর্যবেক্ষণ সঠিক বলে মনে হয় এবং এ প্রসঙ্গে আমরা শাসক মুসলিম কর্তৃক স্থানীয় অমুসলিমদের ওপর অন্যায্য জিজিয়া কর আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করতে পারি। এই শাসকদের আইন অনুসারে অমুসলিমরা ইসলাম গ্রহণ না করেও থাকতে পারবে, যদি তারা শাসককে কর দেয়। শাসকরা দেখেছেন, তাঁর রাজ্যে যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ না করে জিজিয়া কর দেয়, তাদের ততই লাভ। আর এ জন্য শাসক মুসলিমরা ইসলাম প্রচারের কাজে বিশেষ মনোযোগ দেননি, দু-একটি টুকটাক মসজিদ নির্মাণ, মাদরাসা চালু—এগুলো ছিল লোক দেখানো নামকাওয়াস্তে।

উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারকদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আর্নল্ড একটি বিশেষ মন্তব্য করেছেন, যা প্রণিধানযোগ্য। তাঁর মতে, ‘সংখ্যার বিচারে সমগ্র ভারতের মধ্যে বাংলাদেশেই মুসলমান ধর্ম প্রচারকরা সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন।’ [আর্নল্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৩০৪]

এখানে লেখক সুস্পষ্টভাবে ধর্ম প্রচারকদের কথা বলছেন, ‘মুসলিম শাসক’দের কথা বলেননি। বাংলা-ভারতে ইসলাম প্রচারে মুসলিম শাসক ও মুসলিম প্রচারকদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, এ বোধটুকু ইসলামের ইতিহাস লেখক, সে মুসলিম অথবা অমুসলিম, দেশি কিংবা বিদেশি হোক, আমরা পাই না। আর্নল্ড এ ব্যাপারে অন্যতম ব্যতিক্রম।

শুধু তা-ই নয়, আর্নল্ড তাঁর গ্রন্থে দেখিয়েছেন, যেসব জায়গায় মুসলিমদের দ্বারা জোর-জবরদস্তি হয়েছে, তা প্রধানভাবে হয়েছে শাসক মুসলিমদের দ্বারা, যাদের ক্ষমতা দখল ও কর আদায় ছাড়া অন্য কোনো ‘কৃতিত্ব’ নেই বললেই চলে। আবার যেসব মুসলিম শাসক এই জবরদস্তিমূলক কাজে জড়িত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া শাসকরাই এসব ক্ষতিকর কাজ বেশি করেছেন। উদাহরণ হিসেবে আর্নল্ড রাজা গণেশের ছেলে যদুর কথা উল্লেখ করেন, (যদু মুসলিম হয়ে জালালউদ্দিন মোহাম্মদ শাহ নাম ধারণ করেছিলেন)। রাজা যদুর আমলে অসংখ্য ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেছিল—এ কথা অন্য ইতিহাসবিদরাও বলেছেন এবং এসব ঘটনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ দ্বারাই ঘটেছিল। [দেখুন, আর্নল্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৩০৫]

প্রকৃতপক্ষে টমাস ওয়াকার আর্নল্ড লিখিত দ্য প্রিচিং অব ইসলাম গ্রন্থটি যে উদ্দেশ্যেই লিখিত হোক না কেন, তা বাংলাদেশের ইসলামের ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে। অন্য অনেক দেশি-বিদেশি, মুসলিম-অমুসলিম ইতিহাসবিদের লেখা গ্রন্থগুলোর তুলনায় আর্নল্ডের গ্রন্থ স্বতন্ত্র ও আন্তরিক। যেহেতু বইটি লিখিত হয়েছে খ্রিস্টান মিশনারিদের সামনে খ্রিস্টীয় ধর্ম প্রচারের ট্রেনিং মডিউল হিসেবে, সেহেতু ইসলাম প্রচারের প্রকৃত সত্যটিও মিশনারিদের সামনে তুলে ধরা আবশ্যক মনে করেছেন উদ্যোগীরা। আর এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসের অনেক মিথ্যা প্রচারণা ও অসত্য ভাষণের জালও খুলে দিয়েছে।

গ্রন্থটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলেও দুই দফা এর অনুবাদক পাল্টেছে। অনুবাদের মানও নিম্নস্তরের। গবেষণাগ্রন্থ কিভাবে অনুবাদ করতে হয়, তা তাদের জানা ছিল না বলে মনে হয়। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় তাদের এই অজ্ঞতা ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস অনুবাদে আক্ষরিক অনুবাদই যথার্থ, এখানে ভাবানুবাদ গ্রাহ্য নয়। মূলে যদি থাকে শুধু ‘মোহাম্মদ’, অনুবাদে সেখানে ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বা সা.’ লেখার প্রয়োজন নেই। উদ্ধৃতির সূত্র উল্লেখে একবার অন্তত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন ছিল, পরে সংক্ষিপ্ত হলেও চলে। অনেক অধ্যায় তাঁরা যদিও দিয়েছেন নিজেদের বিবেচনা মতে, এতে অনুবাদের সততা রক্ষিত হলো না। প্রকাশনার মানও অতি নিম্নস্তরের। এর দায় কে নেবে?

লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক

 

 

 

 



মন্তব্য