kalerkantho


মুসলিম বিশ্বের বর্তমান চ্যালেঞ্জ

ইকবাল কবীর মোহন

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মুসলিম বিশ্বের বর্তমান চ্যালেঞ্জ

পৃথিবী অনেক দূর এগিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সভ্যতাকে উজ্জ্বল করেছে। ফলে মানুষের অনেক অসাধ্য আজ সাধ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে এসে ধরা দিয়েছে। এ কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান সভ্যতা আগের যেকোনো শতাব্দীর তুলনায় সৌন্দর্য, উৎকর্ষ ও স্বচ্ছন্দতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি, অস্থিরতা, ব্যস্ততা ও ব্যাকুলতা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে দেশে বেড়েছে সমস্যা। বেড়েছে সংঘাত ও হানাহানি। আর এসব স্থিতিহীনতা, সংঘাত ও সংঘর্ষের কেন্দ্রভূমি হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জনপদ। বিপুল ধন ও জনসম্পদ এবং দ্বিন ও নৈতিকতার এক মহান আদর্শ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলো আজ দুর্দশাগ্রস্ত। এরা খ্রিস্টান ও ইহুদি লবির কাছে নতজানু। মুসলমানরা আজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চরম নিপীড়ন ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। মুসলমানদের দ্বিন ও ধর্ম যেন অবিশ্বাসীদের করুণার ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি অনৈসলামী লোকদের হাতে বন্দি। ইসলামী সভ্যতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আজ জরাজীর্ণ।

এমন ভয়াবহ অবস্থায় মুসলমানরা পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসায় নিমজ্জিত। মুসলিম দেশগুলো আজ অনৈক্য ও হানাহানির সর্বনাশা খেলায় লিপ্ত। আদর্শহীনতা ও অনৈতিকতার চরম বিপর্যয় মুসলমানদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। তারা এখন নিরুপায় ও অসহায়। এই সুযোগে মুসলিম বিশ্বের জনপদগুলোতে বিধর্মীরা দুর্গম বিভ্রান্তির প্রাচীর নির্মাণ করে চলছে। মুসলমানদের ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলার চেষ্টা করছে। এ জন্য ইসলামবিরোধীরা দুনিয়ার তাবৎ বিরুদ্ধবাদী শক্তিগুলোকে একত্র করেছে। ব্যবহার করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থাগুলোকেও। সব শেষে এরা জাতিসংঘের মতো বিশ্ব সংস্থাকেও মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে। দেশে দেশে জাতিসংঘের নীরবতায় চলছে মুসলিম নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ। মুসলমানদের এই দুরবস্থা ও অধঃপতন সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

এক. মুসলিম শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক, দুই. ইসলামী বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্ক, তিন. ইসলামী চিন্তাবিদদের দায়দায়িত্ব, চার. ওআইসির কার্যকারিতা, পাঁচ. মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ছয়. মুসলিম বিশ্বের সামরিক সামর্থ্য।

 

মুসলিম শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক

পৃথিবীর মানচিত্রের একটা বিরাট অংশজুড়ে অর্ধশতাধিক মুসলিম রাষ্ট্র শোভা পাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বসবাস করছে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান। এসব মুসলমান মিলে হচ্ছে এক উম্মাহ। পবিত্র কালামে পাকে তাদের ‘কুনতুম খাইরা উম্মাতিন’ বা ‘শ্রেষ্ঠ জাতি’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই শ্রেষ্ঠ জাতির দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘উখরিজাত লিননাস, তা’মুরুনা বিল মারুফে ওয়া তানহাওনা আনিল মুনকার’—অর্থাৎ ‘মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি, তোমরা মানুষকে ভালো কাজের আদেশ দেবে ও মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

প্রকৃতপক্ষে এই মহান দায়িত্ব পালনের কাজ মুসলমান রাষ্ট্রের শাসকদের। কেননা শাসক হচ্ছেন একটা মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিনিধি বা মূল নেতৃত্ব। তাঁকে অবশ্যই মুসলিম জনগণের ভালো-মন্দ বা কল্যাণ-অকল্যাণ নিয়ে ভাবতে হবে। তবে তাঁকে সার্বভৌম কোনো অধিকার দেওয়া হয়নি। কেননা সার্বভৌমত্বের মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ। আর শাসককে অবশ্যই কোরআন ও সুন্নাহর অনুসারী হতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, মুসলিম দেশগুলোর কোথাও আজ এই দৃষ্টিভঙ্গির শাসকের অস্তিত্ব নেই। মুসলমান শাসকদের কেউ আজ সমাজতন্ত্রী, কেউ ধর্মনিরপেক্ষ, কেউ জাতীয়তাবাদী, কেউ একনায়কতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। কেউ রাজতন্ত্রের জগদ্দল পাথর চাপিয়ে দিয়েছে জনগণের ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, মরক্কোসহ অনেক দেশেই জনগণের পছন্দমতো শাসক নির্বাচন করা যায়নি। সেখানে কায়েম রয়েছে রাজতান্ত্রিক সরকার। তারা কোরআন নির্দেশিত আইন বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া পন্থায় মুসলিম জনগণকে শাসন করছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে কায়েম রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ ধরনের সরকার। আবার আলবেনিয়া, আলজেরিয়া প্রভৃতি দেশে প্রতিষ্ঠিত আছে সমাজতন্ত্রী ধরনের সরকার। এরা সবাই নানা ধরনের ইসলামবিরোধী আইন চাপিয়ে দিচ্ছে মুসলমান জনগণের ওপর। শুধু তা-ই নয়, ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বদলে এসব শাসক জনগণকে অনৈসলামিক ও পাশ্চাত্যমুখী শিক্ষা ফেরি করছে। জনগণও ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ওই সব কানুন মেনে চলছে। ফলে ইসলামী শাসক ও শাসিতের অস্তিত্ব আজ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে বিলীয়মান।

 

মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্ক

মুসলমানদের কাজে মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক এবং তা মিটিয়ে ফেলার জন্য আলাপ-আলোচনা করাও কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতি। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আজ যেসব বিরাজমান সমস্যা ও মতবিরোধ রয়েছে, তা নিরসনের জন্য কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ পালন করা ছিল একান্ত কর্তব্য। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, মুসলমান শাসকরা কেউ তা মেনে চলছেন না। তাঁদের মধ্যে চিন্তা, নীতি ও কৌশলের অনৈক্য আজ স্পষ্ট। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতি এখনো বিপরীতমুখী। যে আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সব মুসলমান এক ও অভিন্ন জাতি, সেই আদর্শিক চেতনা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বর্তমান নেই। ইসলাম পুরোপুরিভাবে অনুসরণ না করার কারণেই মূলত এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম শাসকরা আজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসরায়েল ফিলিস্তিন দখল করে নিতে পারত না, মিয়ানমারের লাখ লাখ মুসলমানকে জঘন্যভাবে হত্যা ও বিতাড়িত করতে পারত না। ফিলিপাইনে মরো মুসলিম, থাইল্যান্ডে পাতানি, ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার হতো না। কাশ্মীরে মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার হতো না। ওআইসির দুর্বলতা ও মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের আদর্শিক শূন্যতাই গোটা বিশ্বের মুসলমানদের এই চরম দুর্দশার জন্য দায়ী।

 

ইসলামী চিন্তাবিদদের দায়-দায়িত্ব

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের শিল্পবিপ্লব এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উত্থান দুনিয়ার বুকে প্রচণ্ড জাগরণ সৃষ্টি করে। এতে মুসলিম দেশগুলোও প্রভাবিত হয়। মুসলমানদের ঈমান-আকিদার মূলে তীব্র আঘাত করে শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তা ছাড়া ঔপনিবেশিক শাসন ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মুসলিম সমাজ ও ঐতিহ্যকে তছনছ করে দেয়। এর প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে ইসলামী সংগঠন গড়ে উঠলেও মধ্যপ্রাচ্য ও উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে সংগঠনগুলোর কাজ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এসব আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান বিশ্বে যে ইসলামী পুনর্জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এটা তারই ফল। কিন্তু পাশ্চাত্য সভ্যতা ও অনৈসলামিক শক্তির প্রচারণার তুলনায় ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংস্কারকদের প্রচেষ্টা খুবই নগণ্য। বিশ্বের মুসলমানদের তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দ্বিনি প্রেরণায় উজ্জীবিত করতে হলে ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংস্কারকদের আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

 

ওআইসির ভূমিকা

‘ইসলামী সম্মেলন সংস্থা’ ইসলামী দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। ইসলামের আদর্শিক চেতনা ও দায়িত্ববোধ থেকে মূলত এই সংগঠনের সৃষ্টি। দুনিয়াব্যাপী মুসলিম নিপীড়ন, আগ্রাসন ও সামগ্রিক অধঃপতন ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৬৯ সালে মসজিদুল আকসায় ইহুদি ইসরায়েলের অগ্নিসংযোগের প্রতিক্রিয়া থেকে বারাতে যে সম্মেলন হয়, সেখানেই গঠিত হয় ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)। ওআইসি গঠিত হওয়ার পর থেকে এই সংস্থাকে বহুবার একত্র হতে হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা করেছে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য ও চিন্তার সমন্বয়ের অভাবে ওআইসি আজ পর্যন্ত মুসলমানদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর সংস্থায় পরিণত হতে পারেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ওআইসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোরআন ও সুন্নাহর প্রতি গভীর আস্থার অভাব। এই আদর্শিক বন্ধনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারলেই শুধু এই সংস্থা আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

 

মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতা

বর্তমান দুনিয়ায় অর্থনীতি প্রধান চালিকাশক্তি। অর্থনীতি মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক ক্ষেত্রগুলোকে প্রভাবিত করে। মুসলিম বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ প্রাকৃতিক তেল ও খনিজ সম্পদের কারণে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করেছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক, সামাজিক ও আদর্শিক প্রভাব বিস্তারে মুসলিম দেশগুলো চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বরং মুসলমানদের পুঁজি নিয়ে ইসলামবিরোধীরা তাদের অর্থনীতির ভিত মজবুত করছে। ইসলামী বিশ্বের সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য ষাটের দশকের দিকে এসে মুসলিম অর্থনীতিবিদরা ভাবতে থাকেন। কোরআন প্রবর্তিত ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালান। এই প্রচেষ্টার কারণে সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ইসলামী ব্যবস্থা অনুকূল প্রভাব বিস্তার লাভ করলেও ইসলামী ব্যাংকিং নানাবিধ সমস্যা মোকাবেলা করছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইসলামী অর্থনীতিবিদদের আরো বেশি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

 

মুসলিম বিশ্বের সামরিক সামর্থ্য

মুসলিম বিশ্বের সামরিক সামর্থ্য খুব নগণ্য। গত কুয়েত-ইরাক যুদ্ধ এবং তারও আগে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধগুলোতে মুসলমানদের সামরিক শক্তির সীমাহীন দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবছর মুসলিম দেশগুলো পাশ্চাত্য দেশগুলো থেকে বিরাট অঙ্কের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করছে। অথচ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ নেই। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, মুসলিম দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারছে না। পাকিস্তান এই অস্ত্রের অধিকারী হলেও এটা নিয়ে দেশটি গোটা বিশ্বের হুমকির মধ্যে পড়েছে। এই কঠিন বাস্তবতায় ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথ সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে এই প্রয়াস খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি। ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা করেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবরোধ ও চাপের মধ্যে পড়েছে। তা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য সামরিক শক্তির দিকে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

শেষ কথা

বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যা বহুবিধ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একমাত্র পথ হচ্ছে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, আইন ও বিচারে ইনসাফ কায়েম এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন প্রবর্তন এখন জরুরি। মুসলিম বিশ্বের সার্বিক উন্নয়ন ও শক্তি নিশ্চিত করতে হলে ইসলামী বিধানের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে গোটা মুসলিম বিশ্ব এক বিরাট উম্মায় পরিণত হবে। ফলে একটি যৌথ কৌশলের আওতায় পাশ্চাত্য জগৎসহ অন্যান্য শক্তির যাবতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তা না হলে ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার আর কখনো উদ্ধার করা যাবে না। মরো মুসলিম, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মুসলিম জনগণের স্বপ্ন অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য, নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ রচনার জন্য আজ মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মোকাবেলা করতে হবে আধুনিক চ্যালেঞ্জ।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড



মন্তব্য