kalerkantho


‘কে ঐ শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি’

মোহাম্মদ মোহিব্বুল্লাহ

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে দৈনিক পাঁচবার আজানের ধ্বনি। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন পাঁচবার নির্দিষ্ট সময়ে আজানের মাধ্যমে ইসলামী জীবনাদর্শের মূলনীতি ঘোষণা করা হয়।

এতেই আছে ইসলামের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। উক্ত শব্দগুলোর ঘোষণা কোনো ধরনের সম্বোধন ছাড়াই দেওয়া হয়। এ ঘোষণা সব মানুষের জন্য। তাই আজানের ঘোষণা সর্বজনীন।

কত চিন্তাশীল মানুষ মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান শুনে আপ্লুত হয়েছেন, শান্তির ধর্ম ইসলাম কবুল করে সাফল্যের পথে এগিয়ে গিয়েছেন, তার হিসাব মেলানো ভার। সে জন্যই মুয়াজ্জিনের মর্যাদা মহান আল্লাহর দরবারে অনেক বেশি। প্রতিদিন পাঁচবার করে মুয়াজ্জিন মানুষকে ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলে কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। হজরত মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সুদীর্ঘ গ্রীবার অধিকারী হবেন মুয়াজ্জিনরা। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৮৭)

পৃথিবীতে বহু ধর্ম আছে।

প্রত্যেক ধর্মের রয়েছে ইবাদত-উপাসনার নিজস্ব পদ্ধতি। কিন্তু নামাজের দিকে আহ্বনের এই পদ্ধতি এক অনন্য অনুপম আদর্শ। এটি ঐশীপ্রেরণাজাত এক নিদর্শন। সেই প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম লিখেছেন : ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই/ যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই। ’

মহাকবি কায়কোবাদ লিখেছেন, ‘কে ঐ শোনালো মোরে আযানের ধ্বনি,/ মর্মে মর্মে সেই সুর,/ বাজিলো কি সুমধুৃর,/ আকুল হইলো প্রাণ, নাচিলো ধ্বমনি। / কি-মধুর আযানের ধ্বনি’। / কিন্তু সম্প্রতি ভারতের গায়ক সনু নিগম বলেছেন, সে তো মুসলিম নয়, তবে কেন আজানের শব্দে তার ঘুম ভাঙ্গবে? তার ভাষায় এটা নাকি গুণ্ডামি। (http://bit.ly/2nXI1z8)

তাঁর এ অযাচিত মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও। এ বিষয়ে আরো অনেক তথ্য বের হতে শুরু করেছে। শুধু আজান শোনার জন্যই মসজিদের পাশে বাড়ি কিনেছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক দীলিপ বিশ্বাস। এ তথ্য জানিয়েছেন গুণী এ নির্মাতার ছেলে দেবাশীষ বিশ্বাস। দেবাশীষ নিজেও মনে করেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ধ্বনির নাম আজান। ’ বুধবার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এ কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস।

ফেসবুকে দেবাশীষ লিখেছেন, ১৯৯২ সালে মসজিদসংলগ্ন পরীবাগে চড়া দাম দিয়ে তাঁর বাবা ফ্ল্যাট কিনেছেন, যাতে ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙে। (কালের কণ্ঠ অনলাইন : ১৯ এপ্রিল, ২০১৭)

এদিকে গত জানুয়ারিতে ইউটিউবে আপ করা প্রিয়াংকা চোপড়ার একটি ভিডিও সনুর বক্তব্যের পর ভাইরাল হয়েছে। আজান নিয়ে সনু নিগমের বিষোদগারের জবাব হিসেবেই সবাই ওই ভিডিওটি শেয়ার করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াংকা বলেছেন, ‘ভূপালে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়টি ছিল আজান। যেটির জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। সন্ধ্যায় আমি বারান্দায় বসি। কাজ শেষ হয়ে যায়। পুরো ভূপালে সব মসজিদ থেকে আজানের সুর আসে। আমার বারান্দা থেকে ছয়টি মসজিদ থেকে আজান শোনা যায়। ওই পাঁচ মিনিট আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সূর্য ডুবতে থাকে। তখন মাইকে আজানের সুর ভেসে আসে। তখন বেশ শান্তির একটা পরিবেশ তৈরি হয়। ওইটাই আমার দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময়। ’ (যুগান্তর : ১৯ এপ্রিল, ২০১৭)

অন্যদিকে সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ সনু নিগমের বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুর। জীবনে বহুবার এই মিষ্টি সুরে কেঁপে উঠেছি। আজানের ধ্বনি শুনলে বাকি সব আওয়াজ-কেওয়াজ বন্ধ করে দিই, সম্মান করি, ভালোবাসি। আমার কাছে যারা গান শিখতে আসেন, ক্লাসে তাদের প্রথম কাজ খালি গলায় আজান আর জাতীয় সংগীত গাওয়া। তারপর অন্য আলাপ। জানি না, কে কিভাবে নেবেন, আমি নিজেও আজান গলায় তোলার চেষ্টা করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর তাবৎ সুর যার মধ্যে বিদ্যমান, তার নাম আজান। ’ (যুগান্তর : ১৯ এপ্রিল, ২০১৭)

     লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ


মন্তব্য