kalerkantho

আধ্যাত্মিকতা

সফলতার সূত্র

এম এ মোতালিব

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



কেবল যোগ্যতা ও দক্ষতা দ্বারা সফলতা অর্জন করা যায় না। সফলতার জন্য মহান আল্লাহর রহমত অপরিহার্য। অনেক সময় দেখা যায়, যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুফল অর্জিত হয় না। আবার অনেক অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তির ঘরে ধন-সম্পদের পাহাড় জমে। অনেক সময় দেখা যায় যোগ্য ও দক্ষ লোক কম দক্ষ ও কম যোগ্য লোকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে খেটে খাচ্ছে।

তাই কোনো সৎ কাজ করেই নিশ্চিত হওয়া যায় না যে তা আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন; বরং তা কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর করুণা ও প্রার্থনা বাঞ্ছনীয়। যেমন হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) পবিত্র কাবাগৃহের নির্মাণকাজ শেষ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের কাছ থেকে এটা কবুল করুন। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৭)

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমত ছাড়া তোমাদের কাউকে তার সত্কর্ম বেহেশতে পৌঁছাতে পারবে না এবং দোজখ থেকেও বাঁচাতে পারবে না, এমনকি আমাকেও না, তবে আমাকে আল্লাহর রহমত বেষ্টন করে আছে। ’

এ জন্য উদ্দিষ্ট সুফল লাভের জন্য দক্ষতা ও যোগ্যতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকতের জন্য সকাতরে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকো কাকুতি মিনতি করে, নম্রভাবে ও সঙ্গোপনে। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

মহানবী (সা.) দোয়া কবুল হওয়ার উত্তম কিছু দিন বা সময়ের কথাও তাঁর উম্মতদের অবগত করে গেছেন।

হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে—একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো—ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.), কোন দোয়া ত্বরিত কবুল হয়? হুজুর (সা.) বললেন, রাতের শেষার্ধের মধ্যভাগের দোয়া এবং ফজর নামাজের পরের দোয়া। (তিরমিজি, মেশকাত)

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—এক. রোজাদারের দোয়া, যখন সে ইফতার করে। দুই. ন্যায়বিচারক বাদশাহর দোয়া। তিন. অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া, তার দোয়াকে আল্লাহ মেঘের ওপরে উঠিয়ে নেন। এর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং প্রতিপালক বলেন, আমার ইজ্জতের কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সাহায্য করব, যদিও কিছু দেরিতে হয়। ’ (তিরমিজি)

প্রার্থনা কবুল না হওয়ার কারণ হলো তারা প্রার্থনায় যা চায় বা মুখে তারা যা উচ্চারণ করে, তাদের মনোযোগ, ব্যস্ততা, চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, কাজকর্ম ইত্যাদি এর বিপরীতমুখী।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, অসদুপায়ে বা অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থবৃত্তের মধ্যে থেকে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ সে ডাকে সাড়া দেবেন না। তাই আগে নিজেকে সংশোধন করতে হবে, সৎ উপার্জন করতে হবে এবং সত্ভাবে চলতে হবে। অন্যায় করা যাবে না। কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে জবরদখল করা যাবে না। কাউকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। সত্ভাবে সঠিক পথে চললে আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘অত্যাচারিত ব্যক্তি সে যেই হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। ’ (আহমদ, তিরমিজি)

আল্লাহর সাধারণ অনুগ্রহে আল্লাহদ্রোহী, কাফির, মুশরিক, মোনাফিক, পাপী—সবাই রিজিক পেয়ে থাকে, কিন্তু তারা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ সত্যিকার মোমেন মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত, যাদের মধ্যে তাকওয়া শক্তি বিদ্যমান। কাফির, মুশরিক ও মোনাফিকরা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে যেসব কাজকর্ম করে ধন-সম্পদের অধিকারী হয়, যেগুলোকে তারা শান্তিদায়ক বলে মনে করে, সেগুলোই পরিণামে শাস্তিরূপে তাদের ওপর আপতিত হয়। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। আমরা যে যে কাজে নিয়োজিত, প্রত্যেকেই আমরা তার পারিশ্রমিক পেয়ে থাকি। কেউ কাজ না করলে যেমন তার পারিশ্রমিক বা মজুরি দেওয়া হয় না, তেমনি যে মহান সৃষ্টিকর্তা এ পৃথিবীতে আমাদের পাঠিয়েছেন, তাঁর ইবাদত না করলে কী করে তার বিনিময় আশা করা যায়। এ আশা কি বাতুলতা নয়?

লেখক : সাংবাদিক


মন্তব্য