kalerkantho


রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আদালতের ঐতিহাসিক রায়

আল আমিন আশরাফি

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আদালতের ঐতিহাসিক রায়

সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করা হয়। তখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম উল্লেখ ছিল না। ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী পাস হয়। সেই সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। ওই সংশোধনীতে সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের পরেই ২(ক) নম্বর অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে। ’

ওই বছরই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে কয়েকজন নাগরিক রিট আবেদন করেন। ১৯৮৮ সালের রিট আবেদনের সঙ্গে ২৩ বছর পর ২০১১ সালে দাখিল করা এক সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই বছরের ৮ জুন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা সংবলিত সংবিধানের ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পরে একই বছরের ২৫ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রেখেই সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে কিছুটা সংশোধনী আনা হয়।

ওই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে সে বছরই হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ওই বছরের ১ ডিসেম্বর পৃথক রুল জারি করেন। উভয় রুলের ওপর শুনানির জন্য রিট আবদনকারী পক্ষ হাইকোর্টে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করার জন্য আবেদন করে গত বছর। প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য তিন সদস্যের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি এ বেঞ্চে রুলের ওপর শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত হয়। গত ২৮ মার্চ মহামান্য আদালত রিটটি খারিজ করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখেন।

ঐতিহাসিক এ রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগের প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে। আমরা মহামান্য আদালতের এ রায়কে সশ্রদ্ধ স্বাগত জানাই।

এর আগে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দেওয়ার পর সরকার ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করে। কিন্তু ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ রেখেই সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করা হয়। এ ছাড়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপিকে চেয়ারম্যান করে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ রেখেই সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ পেশ করে। ২০১১ সালের ২৫ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্মসংশ্লিষ্ট সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন। ’

জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ রাখা হয়। এ জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও হূদয় নিংড়ানো অভিবাদন জানাই।

বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ কথাটা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। এর ব্যাখ্যা বঙ্গবন্ধু নিজেই দিয়ে গেছেন। সে ব্যাখ্যা মেনে নিলে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধানে ‘ইসলাম’ থাকলে আপত্তি থাকার কথা নয়। গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ লিখেছেন : ‘‘বাংলাদেশের যে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ঘোষিত হলো তা ইসলামহীন সেক্যুলারিজম নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ইসলামসংক্রান্ত অনুষ্ঠান একটু বেশিই যেন প্রচারিত হতো। হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে বিশেষ কিছুই হতো না। কিন্তু কেন তা হতো? তা হতো এই জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান শ্রোতার কাছে ইসলামী অনুষ্ঠানের বিশেষ আবেদন ছিল। যার বিশেষ আবেদন থাকে, তার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশ কি সেদিন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হতে চেয়েছিল, নাকি অসাম্প্রদায়িক হতে চেয়েছিল? সেদিন বাংলাদেশের ধর্মাবলম্বী নির্বিশেষে বাঙালি জনগণ চেয়েছিল অতীতের সাম্প্রদায়িক বিষ ধুয়ে-মুছে একটি সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে—সেক্যুলার হতে নয়। ’’ (সলিমুল্লাহ খান সম্পাদিত বেহাত বিপ্লব ১৯৭১, আগামী প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ডিসেম্বর ২০১৩, পৃ. ২২৮)

পৃথিবীর যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে

যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম— ১) বাংলাদেশ, ২) জিবুতি, ৩) ইরাক, ৪) পাকিস্তান, ৫) ফিলিস্তিন, ৬) তিউনিসিয়া, ৭) আফগানিস্তান, ৮) আলজেরিয়া, ৯) ব্রুনাই, ১০) কোমোরোস বা ক্যামেরুন, ১১) জর্দান, ১২) লিবিয়া, ১৩) মালদ্বীপ, ১৪) মালয়েশিয়া, ১৫) মৌরিতানিয়া, ১৬) মরক্কো, ১৭) মিসর, ১৮) কাতার, ১৯) সৌদি আরব, ২০) সোমালিয়া, ২১) সংযুক্ত আরব আমিরাত, ২২) ইরান, ২৩) ওমান, ২৪) কুয়েত, ২৫) ইয়েমেন, ২৬) বাহরাইন, ২৭) আচেহ প্রদেশ (ইন্দোনেশিয়া), ২৮) রাশিয়ায় চারটি স্বীকৃত ধর্মের মধ্যে একটি হলো ইসলাম।

যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম খ্রিস্টান—১) কোস্টারিকা, ২) লিশটেনস্টাইন, ৩) মাল্টা, ৪) মোনাকো, ৫) ভ্যাটিকান, ৬) অ্যানডোরা, ৭) আর্জেন্টিনা, ৮) ডোমিনিকান রিপাবলিক, ৯) এলসালভাদর, ১০) পানামা, ১১) প্যারাগুয়ে, ১২) পেরু, ১৩) পোল্যান্ড, ১৪) স্পেন, ১৫) গ্রিস, ১৬) জর্জিয়া, ১৭) বুলগেরিয়া, ১৮) ইংল্যান্ড, ১৯) ডেনমার্ক, ২০) আইসল্যান্ড ২১) নরওয়ে, ২২) ফিনল্যান্ড, ২৩) সুইডেন, ২৪) টোঙ্গা, ২৫) টুভালু, ২৬) স্কটল্যান্ড, ২৭) ফ্রান্স, ২৮) হাঙ্গেরি।

যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম বৌদ্ধ—১) কম্বোডিয়া, ২) শ্রীলঙ্কা, ৩) থাইল্যান্ড, ৪) মিয়ানমার, ৫) ভুটান, ৬) তিব্বত, ৭) কালমিকিয়া (রুশ ফেডারেশনের একটি রাজ্য)।

যে দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইহুদি ধর্ম—১) ইসরায়েল, ২) রাশিয়ায় চারটি স্বীকৃত ধর্মের মধ্যে একটি হলো ইহুদি ধর্ম। (সূত্র : http://goo.gl/nb7ami)

ইউরোপ মহাদেশে ৫৮টি দেশ আছে। (http://goo.gl/0ySrk1) এর মধ্যে ৫৩টি হচ্ছে খ্রিস্টানপ্রধান রাষ্ট্র। আশ্চর্য হলো, এই ৫৩টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশের হয় পতাকার মধ্যে খ্রিস্টীয় প্রতীক ক্রুশ বিদ্যমান অথবা তাদের রাজধানীর পতাকার মধ্যে ক্রুশ বিদ্যমান কিংবা তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতীকের মধ্যে ক্রুশ বিদ্যমান বা পতাকায় খ্রিস্ট ধর্মীয় বিভিন্ন চিহ্ন অথবা খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদের রং বিদ্যমান। অনেকে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আপত্তি করতে গিয়ে ইউরোপের দোহাই দেয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে—ইউরোপীয়রা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও খ্রিস্ট মতবাদ আঁকড়ে ধরে রেখেছে। বিষয়টি তাদের জাতীয় পতাকাতেই দৃশ্যমান। তা ছাড়া ইউরোপ ও বাংলাদেশের মধ্যে কেবল ভৌগোলিক ব্যবধানই নয়, ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। ইউরোপে সেক্যুলারিজম এসেছে খ্রিস্টধর্মকে কেন্দ্র করে। তাদের অভিজ্ঞতা আর মুসলিম দেশের অভিজ্ঞতা এক নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুসলমানরা সব সময়ই প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের প্রতি সদাচার করেছে। সংখ্যালঘু হিসেবে মুসলমানরা প্রায় ৮০০ বছর ভারত শাসন করেছে। মুসলমান শাসকরা যদি চাইতেন, তাহলে সবাইকে জোর করে মুসলমান বানাতে পারতেন। সেটা হলে এখন আর ভারতে মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম-সম্প্রদায়ের লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের বিষয়ে যশোবন্ত সিংহের বক্তব্য হলো : ‘এটা খুব ভালোভাবে বুঝে দেওয়া দরকার যে ইসলামী সমাজকে যার নিরিখে সচরাচর বিচার করা হয়, সেই খ্রিস্টীয় সমাজের সঙ্গে কিন্তু এর তুলনা চলে না। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মতো যিশু তাঁর অনুগামীদের কোনো আইন-বিধি দিয়ে যাননি, খ্রিস্টানরা সে সময় প্রচলিত রোমান আইনই অনুসরণ করেছেন। সংকীর্ণ অর্থে ধর্মীয় কিছু ধারণা ছাড়া খ্রিস্টানরা তাদের গ্রিক-রোমান ঐতিহ্য থেকে খুব একটা সরেননি, তার অনুগমনই করেছেন। কিন্তু ইসলামী আইন-বিধি আবার প্রাক-ইসলামী আরব ঐতিহ্যে প্রোথিত নয়, তার উৎস একান্তভাবেই কোরআন এবং পয়গম্বরের সুন্নাহ। ’ (যশোবন্ত সিংহ, জিন্নাহ ভারত দেশ ভাগ স্বাধীনতা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ভারত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, নভেম্বর, ২০০৯, পৃ. ৪২৯-৪৩০)

রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে আপত্তি ও নিষ্পত্তি

কেউ কেউ রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার যুক্তি দেখায়। অথচ মালয়েশিয়ার ফেডারেল কনস্টিটিউশনের প্রথম ভাগের ৩-এর ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : Islam is the religion of the Federation; but other religions may be practiced in peace and harmony in any part of the Federation. (http://goo.gl/svUNdA)

কেউ কেউ ইরাকের প্রসঙ্গও টানতে চেষ্টা করেন। অথচ ইরাকের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ইরাকের সংবিধানের ২-২অ-তে আছে : Islam is the official religion of the State and is a foundation source of legislation : A. No law may be enacted that contradicts the established provisions of Islam. (BivGKi msweavb :  http://goo.gl/EY5wvY)

রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার প্রসঙ্গ আনা অযৌক্তিক। ইন্দোনেশিয়ার সংবিধানের Article ২৯-এ বলা হয়েছে : Religion : (1) The State shall be based upon the belief in the One and Only God. (2) The State guarantees all persons the freedom of worship, each according to his/her own religion or belief. এক ও একমাত্র ‘গডে’ বিশ্বাস ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে নেই। (http://goo.gl/QemKDm)

কেউ কেউ বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে যাবেন। ’

এ কথা বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর বলার সুযোগ নেই। কেননা সেখানে বলা আছে : ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন। ’ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যে পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং যেভাবে জাতীয় জীবনের মূল স্রোতের অংশ হয়ে আছে পৃথিবীর আর কোথাও তার নজির নেই।

কেউ কেউ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মানেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, সেখানে রাষ্ট্রধর্মের সুযোগ নেই। ’ আমরা বলব, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মানেই সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা। তবে সেখানে সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করার কথা রয়েছে। আর রাষ্ট্রধর্ম হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। সেখানে অন্যদের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকে।

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো সংখ্যালঘু ইস্যু। আমরা মনে করি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে মূল ব্যাপারটা রাষ্ট্রধর্ম থাকা বা না থাকা নিয়ে নয়। ব্যাপারটা নির্ভর করে ক্ষমতাসীনদের মানসিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর। ‘অস্ট্রিয়া’ ইউরোপের অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। গত কিছুদিন আগে দেশটির সরকার আইন জারি করেছে যে অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন আরবি ভাষায় পড়তে পারবে না। এ ছাড়া সে দেশে কোনো মুসলিম স্থাপত্য নির্মাণ ও ইমামের বেতনের জন্য বিদেশি অনুদান নিতে পারবে না। (সূত্র : http://goo.gl/5yhzd5, http:// goo.gl/nPfssU )

ফ্রান্সের জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ মুসলিম। অথচ দেশটিতে মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ। এমনকি হিজাব পরিধান করলে জরিমানা হওয়ার আইন করা হয়েছে। ফ্রান্সে মসজিদগুলোয় প্রায়ই হামলা করে অমুসলিম সন্ত্রাসীরা। স্পেনেও হিজাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মুসলিম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন, ‘রাষ্ট্র একটি নিষ্প্রাণ সত্তা। রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কিসের?’ এ প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করা যায়, রাষ্ট্রের আবার ভাষা কিসের? রাষ্ট্র কি কথা বলতে পারে? সুতরাং ‘রাষ্ট্রভাষা’ থাকতে পারলে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ থাকার মধ্যে আপত্তি কেন?

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে এ যুগান্তকারী রায় দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের মহামান্য আদালত গৌরবময় নজির স্থাপন করেছেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

লেখক : ইতিহাস গবেষক


মন্তব্য