kalerkantho

26th march banner

ট্রেনে নামাজের বিধান

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যদি কোনোভাবেই কিবলার সঠিক দিক না জানা যায়, তবে নিজেই চিন্তা করবে যে কিবলা কোন দিকে হতে পারে এবং যে দিকে হওয়ার ব্যাপারে অন্তর বেশি সায় দেয়, সে দিকে ফিরেই নামাজ পড়বে। পরে যদি তা ভুলও প্রমাণিত হয়, তবুও এভাবে আদায়কৃত নামাজ আবার পড়ার প্রয়োজন নেই।

আর যদি নামাজের ভেতরই কোনোভাবে সঠিক কিবলার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে নামাজ অবস্থায় কিবলার দিকে ঘুরে যাবে। নামাজ ভাঙার প্রয়োজন নেই। (ফাতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৬৩)

যেহেতু নামাজরত ব্যক্তি নামাজের বাইরের কারো লোকমা (ভুল শুধরে দেওয়া) গ্রহণ করলে নামাজ ভেঙে যায়, তাই এ ক্ষেত্রে সতর্কতা হলো, যখন কেউ কিবলার নির্দেশনা দেবে, তখন তাত্ক্ষণিক ঘুরে না গিয়ে চিন্তা করবে যে আসলেই কিবলা এদিকে কি না? তখন চিন্তার ভিত্তিতেই কিবলা পরিবর্তন করবে, বহিরাগত ব্যক্তির সংবাদের ভিত্তিতে নয়।

কিয়াম বা দাঁড়ানোর বিধান : আমরা জানি যে নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া ফরজ। সফর অবস্থায়ও এর ব্যতিক্রম নয়। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সফর অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হবে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ বসে পড়ে, তবে নামাজ হবে না। যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে কিছুতে হেলান দিয়ে দাঁড়াবে। কারণ হাত বাঁধা সুন্নত আর দাঁড়ানো ফরজ। তাই ফরজ রক্ষার্থে সুন্নতের ক্ষেত্রে শিথিলতা মার্জনীয়।

যদি ভিড়ের কারণে পূর্ণাঙ্গভাবে নামাজ পড়া সম্ভব না হয়, তবে দুই সিটের মাঝখানে দাঁড়াবে, রুকু দাঁড়িয়ে করবে এবং সিজদার সময় এক সিটে বসে অন্য সিটের ওপর সিজদা করবে। দাঁড়াতে অক্ষম ব্যক্তি বসে নামাজ পড়বে। ট্রেনে যেহেতু নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, তাই এ ক্ষেত্রে সিটে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে না। লঞ্চ, ফেরি ইত্যাদির ক্ষেত্রেও প্রথমত জায়গা খুঁজতে হবে। নামাজের কথা বললে অনেক অমুসলিম ভাইও নামাজের জন্য জায়গা ছেড়ে দেন, তবে একান্ত অপারগতার ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে সিটে বসে নামাজ আদায় করে নেবে এবং পরবর্তী সময় অবশ্যই তা কাজা করে নেবে। (আল বাহরুর রায়েক : ১/২৪৮)

রেলগাড়ির ড্রাইভার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ট্রেন ছেড়ে গিয়ে ইকামতের স্থান পার হলেই আবার ফিরে আসা পর্যন্ত তারা মুসাফির থাকবে, যদি ১৫ দিনের বেশি সেখানে থাকার নিয়ত না থাকে। ওজরের কারণে নামাজ মাকরূহ ওয়াক্ত পর্যন্ত দেরি হতে দেওয়া যাবে না। ভিড়ের দরুন জায়গা পাওয়া না গেলে ইশারায় পড়ে নেবে, তবে পরে তা কাজা করা আবশ্যক। চলন্ত ট্রেনে অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে বসে পড়ার অনুমতি আছে। রেল থেকে প্ল্যাটফর্মে নামাজ পড়ার সময় যদি ট্রেন ছেড়ে দেয়, তবে যে অবস্থায়ই থাকুক নামাজ ছেড়ে ট্রেনে উঠে যাবে এবং পরে তা কাজা করে নেবে। বাসের ক্ষেত্রে ড্রাইভার বা কন্ডাক্টরকে বলে গাড়ি থামিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নামাজ আদায় করবে। এ অবস্থায় চটজলদি নামাজ আদায়ে কোনো সমস্যা হবে না, কারণ জিহাদের মতো ব্যস্ত মুহূর্তেও নামাজের ব্যবস্থা আছে। দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা না করে বসে নামাজ পড়লে জায়েজ হবে না। রেলে একান্তই পানি না পাওয়া গেলে রেলের দরজায় তায়াম্মুম করা যাবে। কারণ বাইরে থেকে দরজায় যে ধুলাবালি উঠে আসে তা-ই যথেষ্ট। মুসাফির সফর অবস্থায় কোনো নামাজ কাজা করলে পরবর্তী সময় কসর হিসেবেই কাজা করবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক


মন্তব্য