kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাধীনতার মাসে স্বদেশের কথা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ—সবাই নিজের ইচ্ছামতো চলতে চায়। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে চায়।

সবাই চায় নিজের বিষয়গুলো নিজের মতো করে ভাবতে, নিজের স্বপ্ন নিজের মতো করে সাজাতে, নিজের পরিকল্পনা নিজের মতো বাস্তবায়ন করতে। পাখি যখন আকাশে ওড়ে, মনের সাধ মিশিয়ে ডানা মেলে। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যায়। গরু-ছাগল যখন ঘাস খায়, তখন নিজ পছন্দমতো স্থানে ঘাস খায়। সৃষ্টির শুরু থেকে সব প্রাণীর একই প্রবণতা। সবাই নিজের মতো থাকতে চায়, চলতে চায়। চিরকালের এই চাওয়া ও ইচ্ছার নামই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা। মানে নিজের অধীন থাকা। নিজেকে নিজের অধীন পরিচালিত করা।

এই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র হচ্ছে দেশপ্রেম। এই দেশপ্রেম থেকে কোনো রকম বিচ্যুতি ঘটলে বারবার পরাধীনতার শিকল পরতে হয়।

বস্তুগত বিশ্ব ও গোটা বিশ্বের সব কিছু প্রেমের বলয়ে আবদ্ধ। প্রেম হয় আকর্ষণ থেকে। কোনো কিছুকে আকাশের দিকে ছুড়ে দিলে তা আবার জমিনে ফিরে আসে। এর মূলে রয়েছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। গ্রহ-তারা আকাশ থেকে ছিটকে পড়ছে না বা একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে না—এর প্রধান কারণ মহাকর্ষ। এই আকর্ষণের ফলে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা না থাকলে গ্রহের সঙ্গে গ্রহের সংঘর্ষ হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়। তেমনি দেশপ্রেম না থাকলে দেশের অগ্রগতি হয় না। দেশে অশান্তি দেখা দেয়। ক্রমান্বয়ে দেশ ধ্বংস হয়।

স্বদেশপ্রেম বা স্বদেশ চেতনা ইমানের অঙ্গ। এটি বহুল আলোচিত প্রবাদপ্রতিম মধুর প্রবচন। এতে নিহিত রয়েছে পরিশ্রুত ভাবাবেগ, বৃহত্তর কল্যাণবোধ, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সংকল্প। নিজ দেশ, নিজ মাতৃভূমি, জাতীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, সংবিধান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার নামই দেশপ্রেম। এ বোধ, আবেগ ও চেতনা যাদের আছে, তারা দেশপ্রেমিকের বিশেষণে বিশেষায়িত। স্বদেশপ্রীতি ও স্বদেশচেতনা হচ্ছে সুন্নাতে আম্বিয়া (আ.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন স্বদেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন। নবুয়ত-পরবর্তী প্রথম পর্যায়ে ১৩ বছর তিনি অত্যন্ত বাধা-বিপত্তির মধ্যে মক্কায় ধর্মপ্রচারে ব্রত ছিলেন। নিবর্তন ও সংঘাতের তাণ্ডব যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন ৬২২ খ্রিস্টাব্দে দাওয়াতের আরেক দিগন্ত উন্মোচনের উদ্দেশ্যে হিজরত করে মদিনা রওনা হন। মদিনা যাত্রাপথে তিনি জন্মভূমি মক্কার পানে তাকিয়ে অশ্রুপাত করেন বারবার। তিনি মক্কাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমার শহর কতই না সুন্দর, আমি তোমায় ভালোবাসি। আমার জনগণ যদি আমাকে বের করে না দিত, কখনো আমি তোমায় ছেড়ে অন্য কোথাও যেতাম না। ’ (তিরমিজি শরিফ : হা. ৩৯৫২)

আমাদের উচিত দেশকে ভালোবাসা। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসা। আমাদের প্রয়োজন এমন একটি দেশের, যেখানে অন্যায়-অবিচার থাকবে না; সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী থাকবে না, থাকবে না শোষণ-শাসন। রইবে না উঁচু-নিচু প্রভেদ।

লেখক : ইসলামী গবেষক


মন্তব্য