kalerkantho

বাজেটে বিনিয়োগ বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ

ফারজানা লাবনী   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেটে বিনিয়োগ বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ

আগামী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো হবে। সাধারণ মানুষের ওপর রাজস্বের ভার চাপিয়ে এ অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না। দেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হবে। এ জন্য বাজেটে বিনিয়োগের সহজ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে কোন কোন ক্ষেত্রে কতটা রাজস্ব ছাড় দেওয়া সম্ভব তার হিসাব কষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে প্রতিবেদন তৈরিতে গাইডলাইনও দেওয়া হয়েছে।  

গাইডলাইন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে কর অবকাশ ও ডেডো

(শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর) সুবিধা বহাল রাখা, কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ, অগ্নিনির্বাপককাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে সর্বোচ্চ রাজস্ব ছাড়ের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বানে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব ছাড়ের অঙ্গীকার আছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সরকারের করা অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, চামড়া, আইসিটি, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পূনঃপ্রক্রিয়াকরণ, ফল ও ফসল সংরক্ষণ শিল্প, আবাসন, অটোমোবাইলসহ শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার খাতের তালিকায় থাকা সম্ভাবনাময় শিল্প সম্প্রসারণে আগামী বাজেটে এনবিআরের নীতি সহায়তা বহাল রাখার বিষয় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এসব শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে তার সম্ভাবনা বিবেচনা করে রাজস্ব সুবিধা কমবেশি করা যেতে পারে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এ দেশে পানিপথে ব্যবসায়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে নদীপথে পরিচালিত ব্যবসা সম্প্রসারণে এনবিআরের পক্ষে কতটা রাজস্ব ছাড় দেওয়া সম্ভব তার হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করে আগামী বাজেটে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আসতে পারে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, দেশে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। এতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হলে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। দেশে নতুন নতুন শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হলে কর্মসংস্থান বাড়াবে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকবে। উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের সহজ সুযোগ পেলে মুনাফা করবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। ফলে রাজস্ব আদায়ে গতি আসবে।’

মন্তব্য