kalerkantho

নারী উন্নয়নে বিশ্বে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারী উন্নয়নে বিশ্বে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষায় অগ্রগতি, আয়বৈষম্য কমানো ও ব্যবসা করার সুযোগ সব দিক থেকেই বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এমনকি কোনো কোনো সূচকে অন্যদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০১৮’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে লিঙ্গভিত্তিক আয়বৈষম্য বিশ্বের সবচেয়ে কম। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মাসিক লিঙ্গভিত্তিক মজুরিবৈষম্য কমে হয়েছে ২.২ শতাংশ। যেখানে বিশ্বে গড় বৈষম্য ২১.২ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আনুষ্ঠানিক খাতে নারী-পুরুষ আয়বৈষম্য খুব একটা নেই, এটা অবশ্যই ভালো একটি দিক। তবে বড় ধরনের আয়বৈষম্য আছে অনানুষ্ঠানিক খাতে। নারীদের ৯০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। এসব খাতে কিভাবে আয়বৈষম্য কমিয়ে আনা যায় সে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের কাজের জন্যই একটি ন্যূনতম মুজরি ঘোষণা করে দিতে পারে। এরপর এগুলো নজরদারিতে আনার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে হবে। যেমন নারী নির্যাতন বন্ধে ভূমিকা রাখছে ফোন নম্বর। তেমনি নারী-পুরুষ আয়বৈষম্য কমাতেও একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা দরকার যেখানে তারা বিষয়টি জানাতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশের পাঁচ কোটি ৪১ লাখ কর্মজীবীর মধ্যে এক কোটি ৬২ লাখ নারী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৯৭ জন। বিদেশে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ৭৬ লাখ প্রবাসীর মধ্যে ৮২ হাজার ৫৫৮ জন নারী। আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ৮০ শতাংশ নারী। দেশের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহারকারীও নারী।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যে ও অর্থনীতিতে নারীকে এগিয়ে নিতে গত এক দশকে যেসব দেশ আইনগত সংস্কার করেছে তার অন্যতম বাংলাদেশ। ‘নারী, ব্যবসা এবং আইন ২০১৯ : এক দশকের সংস্কার’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে ১৮৭ দেশের এ তালিকায় বাংলাদেশ নিচের সারিতে থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীর ঘর থেকে বের হওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ১০০ পেয়েছে, চাকরি করার ক্ষেত্রে ৫০ পয়েন্ট এবং ব্যবসা করার সুযোগের দিক থেকে ৭৫ পয়েন্ট পেয়েছে। বলা হয়, নারীর ঘর থেকে বের হওয়ার স্বাধীনতা ও ব্যবসা করার সুযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট উন্নতি করেছে। যৌন হয়রানি রোধে আইন করার মাধ্যমে নারীর চাকরি করা তুলনামূলক নিরাপদ করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন বন্ধেও আইন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, যদি নারীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সমান অধিকার পেত তবে বিশ্ব শুধু ন্যায্যই হতো না, আরো বেশি সমৃদ্ধ হতো।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য ২০১৮’ প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী-পুরুষের সমতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। চারটি ক্ষেত্রে আবার বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের ওপরে স্থান পেয়েছে। এই চারটি ক্ষেত্রের তিনটি হলো ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতা এবং সরকারপ্রধান হিসেবে কত সময় ধরে একজন নারী রয়েছেন। চতুর্থ ক্ষেত্রটি হচ্ছে জন্মের সময় ছেলে ও মেয়েশিশুর সংখ্যাগত সমতা। বলা হয়, বাংলাদেশ তার সার্বিক লিঙ্গবৈষম্য ৭২ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারী শিক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকারগুলো গুরুত্ব দেওয়ায় এ প্রভাব সব ক্ষেত্রে পড়েছে। অর্থনীতি, শ্রমবাজার, রাজনীতি সব কিছুর মূলেই রয়েছে নারীর শিক্ষা। অবশ্য সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে বেসরকারি সংস্থাগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে।

মন্তব্য