kalerkantho

নারী শ্রমিকের সমমজুরি আদায়ে দৃষ্টান্ত রনিতার

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী শ্রমিকের সমমজুরি আদায়ে দৃষ্টান্ত রনিতার

ঠাকুরগাঁওয়ে পুরুষ শ্রমিকরা দিনভর কাজ করে মজুরি পায় ৪০০ টাকা, সেখানে একই কাজ করে নারীরা পায় মাত্র ১০০ টাকা। এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। সেই প্রচলিত নিয়ম ভাঙতে আন্দোলনের ডাক দেন রনিতা রানী। প্রথমে নারী শ্রমিকদের সংগঠিত করে মজুরিবৈষম্যের বিষয়টি বোঝাতে শুরু করেন। এরপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা আর কম মজুরিতে কাজ করবেন না। দাবি আদায়ে নারী শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন পর সবাই উপলব্ধি করেন নারীদের সঙ্গে শ্রম মজুরিবৈষম্য দূর হওয়া দরকার। এখন বাধ্য হয়ে জমির মালিকরা মজুরি বৃদ্ধি করেছেন। বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তঘেঁষা পরদেশিপাড়ার রনিতা রানী বসবাস করেন। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। জীবন ও জীবিকার জন্য নারী-পুরুষ উভয়কে মাঠে মজুরের কাজ করতে হয়। রনিতাও কৃষিজমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান।

রনিতা জানান, মজুরিবৈষম্য নিয়ে কথা বলা শুরু করার পরই সবার টনক নড়ে। গ্রামের নারী শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কাজ করা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে ক্ষেতে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা পার্শ্ববর্তী গ্রামের নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে শুরু করেন। রনিতা ও অন্য নারী শ্রমিকরা দূরগ্রামের নারীদের মজুরিবৈষম্যের বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হলে তাঁরাও সচেতন হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। অবশেষে জমির মালিকরা নারী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে বাধ্য হন।

নারী শ্রমিক মালাবতী বলেন, পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করার সময় সারা দিনে কয়েকবার ধূমপান ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাজে ফাঁকি দেন। কিন্তু নারী শ্রমিকরা কখনোই কাজে ফাঁকি দেন না। তাহলে নারীরা কেন কাজ শেষে টাকা কম পাবে।

আরেক নারী শ্রমিক পারুল আখতার বলেন, আগে সারা দিন পরিশ্রম করে যে টাকা পেতাম তা সংসারের কোনো উপকারে আসত না। কিন্তু এখন কাজ শেষে পুরুষের সমান মজুরি পেয়ে তা সংসারের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হচ্ছে।

পরদেশিপাড়ার ভবেশ চন্দ্র সিংহ নামের একজন জমির মালিক জানান, নারী শ্রমিকদের মজুরি তো সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তাই অনেক আগে থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নারীদের কম টাকা দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে পরদেশিপাড়াসহ অন্যান্য গ্রামের নারী শ্রমিকরাও পুরুষ শ্রমিকদের সমান মজুরির দাবিতে কাজ বন্ধ করে দেয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি এখন নারী শ্রমিকদের দিনমজুরি পুরুষ শ্রমিকদের সমান দিচ্ছেন।

বালিয়াডাঙ্গী চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী জানান, রনিতার উদ্যোগ শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের পরদেশিপাড়ায় নয়, সারা দেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সাহস ও কথা বলার শক্তি জোগাবে অন্য নারীদের।

মন্তব্য