kalerkantho


চকবাজার ট্র্যাজেডি
অবহেলিতই থেকে গেল চকবাজার

ব্যবসা বাড়লেও রাস্তাঘাট সরুই রয়ে গেছে

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এলো মোগল আমলে গড়ে ওঠা ঢাকার এককালের প্রাণকেন্দ্র চকবাজার। যদিও পুরান ঢাকায় এমন দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইতিহাসবিদরা বলেন, পুরান ঢাকার এই চকবাজারের সূচনা হয়েছিল মোগল আমলে। আর তখন থেকেই ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই চকবাজার। ব্যবসার পাশাপাশি এই চকবাজারে আছে হোসেনি দালান, বড় কাটরা, ছোট কাটরা কিংবা শাহি মসজিদের মতো নানা ধরনের স্থাপত্যকর্ম। তবে চার শ বছর পরে এসে ঢাকা অনেক বিস্তৃত হয়েছে সব দিকেই। কিন্তু ব্যাবসায়িক বিবেচনায় গুরুত্ব হারায়নি চকবাজার।

যদিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ বলছেন, অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল চকবাজার। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ আমলেও এর ভেতরকার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ‘জনসংখ্যা আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে। রাস্তাঘাট, অলিগলি সরুই রয়ে গেছে। সে কারণেই বুধবার রাতে দুর্ঘটনায় রাস্তায় থাকা মানুষও মারা গেছে।’

অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ চকবাজার নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলছেন, ‘চক শব্দটা এসেছে ফারসি শব্দ থেকে। বাণিজ্যিক গুরুত্ব নিয়েই গড়ে উঠেছে এই চকবাজার। মোগলরা আসার পর থেকে চকবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সতের শতকে। পরে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেই দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু চকবাজারের রাস্তাঘাট নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা কেউ করেনি।’

শাহনাওয়াজ বলেন, একসময় বিয়ের কেনাকাটার প্রধান বাজার ছিল চকবাজার। এমনকি বরযাত্রীদের চকবাজার ঘুরে যাওয়ার একটা রীতি ছিল। কিন্তু এখন সেসব রীতিনীতি বিদায় নিলেও পুরনো অনেক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ হয়ে আছে বাংলাদেশের ঢাকার পুরনো অংশের এই চকবাজার।

রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক দ্রব্য ও পারফিউম : ২০০১ সালের হিসাবে, এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস করে। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ভবনেই রয়েছে কেমিক্যাল কারখানা, গোডাউন কিংবা অন্য কোনো ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে অপরিকল্পিত ভবন, সরু রাস্তা, নোংরা অলিগলির পাশাপাশি গত দুই দশকে এই চকবাজার এখন রীতিমতো এক অগ্নিকাণ্ড।

কারণ এই চকবাজারের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থের মজুদ, প্লাস্টিক কারখানা, পারফিউম কারখানা—যেগুলোর সবই তৈরি হয়েছে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই। রাসায়নিকের পাশাপাশি চকবাজারের জমে ওঠা অন্য দুটি ব্যাবসায়িক পণ্য হলো প্লাস্টিক দ্রব্য ও পারফিউম। ফলে ওই এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে প্লাস্টিক ও পারফিউমের কারখানা।

খাবার : রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক দ্রব্য ও পারফিউমের বাইরে আরো একটি বিষয়ের জন্য আকর্ষণীয় এই চকবাজার; সেটি হলো খাবার। বিশেষ করে রোজার সময় বাহারি ধরনের ইফতারসামগ্রীর দোকানে ভরে যায় চকবাজারের রাস্তাঘাট, যেখানে ভিড় করে লাখ লাখ মানুষ।

খেলনা : দেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম খেলনার বাজার চকবাজারে। ঐতিহাসিকভাবেই চকবাজার রকমারি পণ্যের প্রধান পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত, তবে এখন চকবাজারজুড়ে গড়ে উঠেছে খেলনার কয়েক শ পাইকারি দোকান। বিবিসি বাংলা।



মন্তব্য