kalerkantho


খেলাপির কারণে ঋণের সুদ বাড়ছে ১ শতাংশ

স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের দাবি ডিসিসিআইর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



খেলাপির কারণে ঋণের সুদ বাড়ছে ১ শতাংশ

খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ ব্যাংকিং খাত। এই কারণে সুদহার গড়ে ১ শতাংশ বাড়ছে। সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে বড় ঋণ মনিটর, ঋণ আদায়ে কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত ও স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

গতকাল বুধবার ডিসিসিআই নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের নেতারা এ মত ব্যক্ত করেন। রাজধানীর মতিঝিলে  নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ওসামা তাসীর। এতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো খাত, টেকসই নগরায়ণ, আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্ক, ব্যাংকিং খাত নিয়ে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সরকারের কাছে চাওয়া-পাওয়ার নানা দিক তুল ধরেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ প্রায় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১.৪৫ শতাংশই এখন খেলাপি। এর মধ্যে শিল্পঋণের খেলাপিই ৪৪ শতাংশ। খেলাপির কারণে ঋণের গড় সুদহার ১ শতাংশ বাড়ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বড় ঋণ মনিটরিং, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত ও স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

এক অঙ্কে ঋণ বিতরণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিসিসিআই বলছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি নীতি সহায়তার মাধ্যমে মূলধন ব্যয় কমানো প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য উৎপাদন খাতে এক অঙ্কে ঋণ পাওয়া সহজ হয়। মন্দ ঋণ হ্রাস করতে সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা এবং  সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর কোনো বিকল্প নেই। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের একটি নৈতিক চাপও আছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো বলছে, খেলাপি ঋণের কারণে সুদহার কমাতে পারছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যাংক খাতের সংস্কার জরুরি।

করপোরেট ট্যাক্স হ্রাস ও ভ্যাট হার কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে ওসামা তাসীর বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশে করপোরেট ট্যাক্স হার সবচেয়ে বেশি। প্রগ্রেসিভ হারে করপোরেট করহার সব স্তরে ২০১৯-২২ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে ৫, ৭ ও ১০ হারে হ্রাস করা প্রয়োজন।

ভ্যাট এবং ট্যাক্সের ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, আয়কর ও ভ্যাটের রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেশন করতে হবে। পাশাপাশি করজাল এবং করদাতা বৃদ্ধি করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এনবিআর রাজস্ব বৃদ্ধি পায়। অবকাঠামো খাত নিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট চালু করা দরকার। বাংলাদেশে বন্ড মার্কেটের সম্ভাবনা বিষয়ে এপ্রিলে ডিসিসিআই একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সহসভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কে এম এন মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।



মন্তব্য