kalerkantho


তালিকাচ্যুত চার কম্পানি

হঠাৎ শেয়ার কেনার চাপ পুঁজিবাজারে

ডিএসই ও সিএসই সূচক বেড়েছে যথাক্রমে ১১ ও ১৬ পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



হঠাৎ শেয়ার কেনার চাপ পুঁজিবাজারে

বছরের পর বছর লভ্যাংশ না দেওয়ায় চারটি কম্পানিকে মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সিদ্ধান্ত পেলেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাচ্যুতির সিদ্ধান্তের পর ক্রেতা পাওয়া না গেলেও গতকাল মঙ্গলবার উল্টো চিত্র দেখা যায়। কেনার চাপে কম্পানিগুলোর শেয়ার সার্কিট ব্রেকারে বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ দাম বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার ডিএসইর পর্ষদ সভায় মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কম্পানি চারটি হলো : মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট, সাভার রি-ফ্যাক্টরিজ ও ইমাম বাটন। তালিকাচ্যুতির সিদ্ধান্তের পর ক্রেতা সংকটে পড়ে কম্পানি চারটি। যার ফলে শেয়ারের দাম কমে যায়। কিন্তু গতকাল কম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম আবারও প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পক্ষ গুজব ছড়িয়ে দাম প্রভাবিত করছে। মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা হলে, বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই কম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, গতকাল সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের। এই কম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.৮ টাকা বা ১০ শতাংশ। প্রায় তিন লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। ইমাম বাটনের লেনদেন হয়েছে সোয়া দুই লাখ শেয়ার। যার বাজার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। ১.৮ টাকা বা ১০ শতাংশ দাম বেড়েছে কম্পানিটির শেয়ারে। সাভার রি-ফ্যাক্টরিজের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯.১ টাকা বা ৯.৯৭ শতাংশ। ৮১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৬৯ লাখ টাকা। মেঘনা পেট কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.১ টাকা বা ৯.৬৫ শতাংশ। দুই লাখ ৬৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে, কমেছে লেনদেন : সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল ডিএসই সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও হ্রাস পেয়েছে। গতকাল ৬১১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৫১ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক নিম্নমুখী হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় শেয়ার কেনার চাপ বাড়লে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৩৫ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৫টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ১৬৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলসের লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি তিন লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ছয় লাখ টাকা। অন্য শীর্ষ কম্পানিগুলো হলো স্কয়ার ফার্মা, ফরচুন শুজ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রি, রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিকস, সায়হাম টেক্স ও ড্রাগন সোয়েটার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সূচক কমেছিল ৭০ পয়েন্ট। গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৬১টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১৪২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কম্পানির শেয়ারের দাম।



মন্তব্য