kalerkantho


পরিকল্পনামন্ত্রী বললেন

প্রকল্প পরিচালকদের ঢাকায় অফিস করা ‘ভয়ংকর’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



প্রকল্প পরিচালকদের ঢাকায় অফিস করা ‘ভয়ংকর’

গতকাল এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

ঢাকার বাইরে না গিয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ঢাকায় বসে অফিস করায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এটিকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘ভয়ংকর’ হিসেবে। পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি নিয়ে সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে সব সচিবকে নিয়ে রবিবারের বৈঠকের কথা এক সপ্তাহ আগেই সব মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন; তাই সব সচিবকে বৈঠকে থাকার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পরও গতকালের সভায় বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব অনুপস্থিত থাকায় অখুশি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তাঁর মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে বললে তখন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন জানান, সচিব ঢাকার বাইরে আছেন। আমাকে পাঠানো হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে একজন সচিব যতটুকু জানেন, অন্যরা ততটুকু না-ও জানতে পারেন। আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সচিব দেশের বাইরে আছেন। কেউ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে দেশের বাইরে আছেন। কেউ বলেছেন, রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে আছেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা সফরে গিয়ে জানতে পারলাম, অনেক পিডি মাঠে থাকার কথা থাকলেও থাকেন না। পিডি থাকেন ঢাকায়। কিছু প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য আছে, মাঠে না গিয়ে ঘরে বসেও দায়িত্ব পালন করা যায়। কিন্তু প্রকল্প হলো ঢাকার বাইরে, পিডি ঢাকায়, সেসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটা মানা যায় না। প্রকল্প ঢাকায় হলে পিডিকে ঢাকায় থাকতে হবে। চট্টগ্রামে হলে চট্টগ্রামেই থাকতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনও মানা হচ্ছে না বেশির ভাগ সময়। প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় না থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরো বলেন, একটি প্রকল্পের পিডি একাধিক প্রকল্পের পিডি হতে পারবেন না। এটাও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, একজন পিডি বেশ কয়েকটি প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করছেন। এটা করা যাবে না। একান্ত যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই এক প্রকল্পের পিডিকে অন্য প্রকল্পে দায়িত্ব দেওয়া যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান সমস্যা হলো জমি অধিগ্রহণ। জমি অধিগ্রহণ করতেই সময় বেশি চলে যায়। সে জন্য নির্ধারিত সময়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না।’ এসব সমস্যা সমাধানে ভূমিসচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কিভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, তা খুঁজে দেখতে। প্রকল্পের গতি বাড়াতে এই ধরনের সভা প্রতি তিন মাস পরপর হবে বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসব সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি চাই। তবে অবশ্যই মানের আপস করে নয়। কাজের গুণগত মানের নিশ্চয়তা চাই। সেটা সচিবদের স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে অমিলের কারণেও দেরি হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এক হাজার ৪০০-এর বেশি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩৩ শতাংশ। গতকালের সভায় কেউ কেউ প্রকল্পে গতি আনতে মন্ত্রণালয়গুলোকে আরো ক্ষমতায়িত করার প্রস্তাব দেন। যাতে করে কোন প্রকল্পে কত টাকা লাগে মন্ত্রণালয়গুলোই ঠিক করবে। এ জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা কমিশনে যাতে না আসতে হয়।



মন্তব্য