kalerkantho


আমদানিতে শুল্ক মওকুফে অনাপত্তি চেয়ে আবেদন

নিরাপত্তায় বুলেট প্রুফ গাড়ি চায় জাইকা

আরিফুর রহমান   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নিরাপত্তায় বুলেট প্রুফ গাড়ি চায় জাইকা

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো আতঙ্ক কাটেনি জাপানি নাগরিকদের মধ্যে। জঙ্গি হামলায় যে ২০ জন মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন জাপানি নাগরিক; যাঁরা মেট্রো রেলের (এক) রুট ঠিক করতে ঢাকায় এসেছিলেন। হামলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও এখনো অনেকটা ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার (জাইকা) কর্মকর্তারা। তাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য তিনটি বুলেট প্রুফ গাড়ি চেয়েছে ঢাকাস্থ জাইকা অফিস।

টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ২০০ মডেলের গাড়িগুলো আমদানিতে সরকার যাতে প্রযোজ্য শুল্ক মওকুফ করে দেয় সে অনুরোধ জানানো হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব বরাবর পাঠানো আলাদা একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বুলেট প্রুফ গাড়িগুলো আসবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। গাড়িগুলো বাংলাদেশে আনতে দুবাইয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল যাতে ওই দেশের সরকারের কাছে অনাপত্তি দেয়, সে অনুরোধ জানানো হয়েছে ইআরডিকে। গাড়িগুলো আমদানির জন্য অনাপত্তি দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে ঢাকাস্থ জাইকা অফিস।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব (জাপান শাখা) শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্নয়ন সহযোগীদের আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি। তারা যেভাবে চায়, আমরা সেভাবেই তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমাদের স্বার্থেই তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি যাতে আর নষ্ট নয়, আমরা সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’ তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতিম দেশ। হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতা কমেনি বরং বেড়েছে। আসছে জুনে ৪০তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় দেশটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি ঋণ দেবে বাংলাদেশকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য তারা বুলেট প্রুফসহ যা-ই চাইছে, সেভাবেই ব্যবস্থা করছি।’

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর অনেক জাপানি নাগরিক নিজ দেশে চলে যায়। পরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাপানে গিয়ে তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। ঘটনার এক বছর পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত জাপানি নাগরিকরা বাংলাদেশে আসতে থাকে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের জন্যই মূলত বুলেট প্রুফ গাড়িগুলো আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কারণ জাইকার অর্থায়নে সারা দেশেই উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। যাতে ফের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় না পড়তে হয়, সে জন্য এই আগাম সতর্কতা। সরকারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকার প্রধান প্রতিনিধি হিতোইশি হিরাতা গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইআরডি সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ২০০ মডেলের গাড়িতে বুলেট প্রুফের উপকরণ সংযোজন করা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখান থেকেই মূলত গাড়িগুলো বাংলাদেশে আসবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে গাড়িগুলো পাঠানোর আগে সে দেশে অনাপত্তি দিতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, জাইকার কাছ থেকে তিনটি বুলেট প্রুফ গাড়ি আমদানির অনাপত্তি দেওয়ার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে অনাপত্তি দিয়েছে। অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেও ঢাকাস্থ জাইকা অফিসের জন্য তিনটি বুলেট প্রুফ গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল যাতে সে দেশের সরকারকে অনাপত্তি দেয়, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাস্থ জাইকা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, তিনটি বুলেট প্রুফ গাড়ি শুধু অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করা হবে। বাণিজ্যিক কিংবা বিক্রয় অথবা কাউকে হস্তান্তর করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। গাড়িগুলো চুরি, খোয়া কিংবা অন্য কাউকে হস্তান্তর করলে ঢাকাস্থ জাইকা অফিস শুল্ক কর দিতে বাধ্য থাকবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আসছে বছরে জাইকা বাংলাদেশে যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করবে, তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। দেশে জাইকার অর্থায়নে ৪০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে।



মন্তব্য