kalerkantho


ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ১৪ টাকা

পেঁয়াজের ক্রেতা নেই খাতুনগঞ্জে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পেঁয়াজের ক্রেতা নেই খাতুনগঞ্জে

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিক্রির জন্য মজুদ পেঁয়াজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোগ্য পণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের ক্রেতা নেই। আড়তে দাম ক্রমে কমতে থাকায় কেউই খুচরা বাজারে বাড়তি পেঁয়াজ কিনে রাখার ঝুঁকি নিচ্ছে না। এই অবস্থায় খুচরা বাজারে চাহিদা কমেছে; যার কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতা মিলছে না।

গত দুই দিন ধরে খাতুনগঞ্জের আড়তে ভারতীয় নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে অবশ্য ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৯ টাকায়, কিন্তু সেগুলো ছিল আগের মৌসুমের পেঁয়াজ। নতুন মৌসুমের নাসিক ও ভেলোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১৪ টাকায়।

আগামী আরো দেড় মাস পেঁয়াজের দামে এই অবস্থা বহাল থাকবে বলে মনে করছেন পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে যে সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে বাজারে আসে, সেই সময়ে কৌশল করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে দেয়; যাতে দেশের কৃষকরা দাম না পেয়ে আগামী দিনে উৎপাদনে আগ্রহ হারায়। একইভাবে মন্তব্য করে খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলম বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবারই দেখছি দেশের কৃষকরা যে মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন করেন ঠিক সেই সময়েই দামে ধস নামানো হয় কৌশলে। ফলে দেশি পেঁয়াজ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দর হারায়। কৃষকরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তবে এটা ঠিক, দেশের ভোক্তারা উপকৃত হন।’

তবে পেঁয়াজের দাম এত বেশি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আইউব রশিদ বলেন, এ সময় দেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের পেঁয়াজ বিপুল পরিমাণ এসেছে। ফলে প্রতিযোগিতা দিয়ে দাম কমছে। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য, তাই চাইলে তো বেশিদিন মজুদ রাখার সুযোগ নেই। দ্রুত বিক্রি করতে পারলেই ব্যাংকের দেনা শোধ করা যাবে।

জানা গেছে, দেশে পাইকারি পণ্যের বৃহত্তম বাজার খাতুনগঞ্জে এখন একচেটিয়া ব্যবসা ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজের। চট্টগ্রামের বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের খুব একটা কদর নেই, তাই আড়তদাররা সেগুলো বিক্রিতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। এই কারণে খাতুনগঞ্জে দেশি তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১২ টাকায়। এই পেঁয়াজ আরো দুই মাস থাকবে বাজারে।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করেন না। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ কমিশনে চট্টগ্রামের আড়তে বিক্রি করে থাকেন। দেশে সব পেঁয়াজই আসে ভারত থেকে এবং স্থলবন্দর দিয়ে ট্রাকে করে। তবে ভারতে পেঁয়াজ সরবরাহে সংকট তৈরি হলে চীন, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয় ভারত সরকার। ভারতে ব্যাপকভাবে দাম কমায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য টনপ্রতি সাড়ে ৭০০ মার্কিন ডলার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর পর থেকে ব্যবসায়ীরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দর-কষাকষি করেই পেঁয়াজ আমদানি করছেন। পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক করও দিতে হচ্ছে না।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজ বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা কোনো লাভ দেখছে না বেশ কয়েক মাস ধরেই। এগুলো টাকা হাতবদল হচ্ছে কেবল।’

কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনতে পরিবহন খরচ কেজিপ্রতি ছয় রুপি (আট টাকা বাংলাদেশি), স্থলবন্দর দিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছতে পরিবহন খরচ তিন টাকা আর পণ্য ওঠানো-নামানোর খরচ দেড় টাকাসহ মোট খরচ দাঁড়ায় সাড়ে ১২ টাকা। কেজি ১৪ টাকা বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ ভারত থেকে কত দামে কেনা হলো সেটিই বড় প্রশ্ন। 



মন্তব্য