kalerkantho


প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান আইএমএফের

মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

ইউরোপ ও উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশগুলোর দুর্বলতায় এ বছর এবং আগামী বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থার মতে, বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব নিরসন না হলে শ্লথ বিশ্ব অর্থনীতি আরো বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়তে পারে।

তিন মাসের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমাল সংস্থা। আইএমএফ মনে করে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মন্থর হতে পারে। এ ছাড়া কোনো চুক্তি ছাড়াই যদি ব্রেক্সিট হয়ে যায় তবে সেটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়াবে। এর ফলে অর্থবাজারে অস্থিরতা বাড়বে।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে হবে ৩.৬ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে প্রকাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে যথাক্রমে ০.২ এবং ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

এ সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে একত্রিত হচ্ছেন আর্থিক নির্বাহী ও বিশ্ব নেতারা। এ সম্মেলনকে সামনে রেখেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আইএমএফ। যাতে বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন নীতিনির্ধারকরা।

আইএমএফের এমডি ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেন, দুই বছর সুসংহত প্রবৃদ্ধির পর বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এমনকি ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তার মানে কী এই একটি বৈশ্বিক মন্দা খুব কাছাকাছি? না, কিন্তু বিশ্ব প্রবৃদ্ধি বড় পতনের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে বেড়েছে। বড় একটি মন্দা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করুন যাতে এটি ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপক হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের অর্থনীতিতে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের রপ্তানি পাওয়ার হাউস জার্মানি গাড়ির জ্বালানি নির্গমন মান নিয়ে সংকটে আছে। চাপের মধ্যে আছে ইতালিও। আইএমএফের মতে, ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালের ১.৮ শতাংশ থেকে আরো কমে ২০১৯ সালে হবে ১.৬ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে ২০১৮ সালে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এলেও এ বছর আরো কমে হবে ৪.৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো গত কয়েক মাস যাবৎ বহির্মুখী প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করছে। এর কারণ বাণিজ্যিক উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধি, ডলারের অবনয়ন, পুঁজির বহির্মুখী প্রবাহ এবং জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা।

আইএমএফ জানায়, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি আসবে ২.৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে আসবে ১.৮ শতাংশ। চীনের প্রবৃদ্ধি ২০১৯ ও ২০২০ সালে হবে ৬.২ শতাংশ।

এর আগে বিশ্বব্যাংকের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ২০১৯ সালে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি কমে হবে ২.৯ শতাংশ। যদিও ২০১৮ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ। সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উদ্বেগ ও সুরক্ষাবাদী নীতির কারণেই এ বছর প্রবৃদ্ধি কমবে। এমনকি ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি আরো কমে ২.৮ শতাংশ হবে।

অর্ধবার্ষিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টলিনা জর্জিয়েভা বলেন, ২০১৮ সালের শুরুতে বিশ্ব অর্থনীতির সবগুলো ইঞ্জিনই ছিল সক্রিয়। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই গতি হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি এ বছর যাত্রা আরো কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতি একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে আর আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্ব অর্থনীতি মন্থর হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রবৃদ্ধি এখনো জোরালো। কিন্তু একটি ঝড়ের আঘাতে তা ভেঙে পড়তে পারে। তা ছাড়া সামনের দিনগুলোতে নীতিনির্ধারকরা কিভাবে জবাব দেন তার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করছে অর্থনীতি কেমন যাবে।



মন্তব্য