kalerkantho


রাজধানীতে তিন দিনের প্রদর্শনী শুরু

ফুলের বাজার ১২শ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফুলের বাজার ১২শ কোটি টাকা

ফুল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইট-পাথরের এই শহরে বাড়ির ছাদে একসময় শখের ফুলবাগান করা হলেও এখন এর ব্যাপ্তি বেড়েছে অনেক। বিয়ে, জন্মদিন, যেকোনো সাফল্যের শুভেচ্ছা আর শোকে শ্রদ্ধা জানাতে এর ব্যবহার বেড়েছে বেশ। ফলে দিন দিন ফুলের বাণিজ্যিক চাহিদা এবং বাজার বাড়ছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া উন্নত জাতের ফুল চাষে অনুকূল হলেও সিংহভাগ এর চাষ হয় অদক্ষ কৃষকের জমিতে। এ ছাড়া নেই সংরক্ষণ করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তবে আশার কথা এর পরও কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এর বাজার বাড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী আগারগাঁওয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স ২০১৮ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। ইউএসএআইডির সহায়তায় এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্ভাবনাময় ফুলশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এর সঙ্গে জড়িত কৃষক ও উদ্যোক্তাদের স্বল্প হারে ঋণ সুবিধা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাপ্তি ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, উন্নত ও নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ করা, ওয়্যারহাউস ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং সর্বোপরি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। এ ছাড়া ফুল খাতের বিকাশে হিমাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের ফুল চাষসহ কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘ওয়্যারহাউস নির্মাণ’ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে সমাজের নানা স্তরে ফুলের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দেওয়ার ফলে বর্তমানে সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে আমরা দ্বিতীয় স্থানে। ফুল চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগোনোর জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল বিদেশে রপ্তানির জন্য প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, হিমাগার স্থাপন, ফুলের নতুন নতুন জাত উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপের জন্য এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪.৩২ শতাংশ এবং মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০.৬ শতাংশ কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক একটি পণ্য হিসেবে ফুলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য মতে, সারা পৃথিবীতে ফুলের বাজার প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, বর্তমানে সার্বিকভাবে ফুলের বাজার মূল্য প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ফুল একটি উচ্চ মূল্যমান কৃষিপণ্য এবং বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ২০টি জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে এবং ফুল খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

আগামী শনিবার পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স ২০১৮’-এ প্রায় ৭০টি স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা তাদের ফুল ও ফুলসংশ্লিষ্ট পণ্য প্রদর্শন করছে; যেখানে থাইল্যান্ড, ভারত এবং নেপালের ১২টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ মেলা রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম, ইউএসএইডের কনসালট্যান্ট এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, ডিসিসিআই সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন প্রমুখ।



মন্তব্য