kalerkantho


এসডিজি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এসডিজি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার তাগিদ

গতকাল সিপিডি আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নতুন একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে ঢাকায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনার থেকে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিকল্প হিসেবে কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে দুই দিনের সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সেমিনারে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশিষ্টজনরা বলেছেন, নতুন পদ্ধতি এবং নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা উচিত। সার্ক কেন কার্যকর হচ্ছে না, সেটি মাথায় রেখে নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন তাঁরা। যাতে নতুন সংস্থাটির মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।

‘দক্ষিণ এশিয়ায় এসডিজি : নতুন কাঠামোর সন্ধানে’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউএন-এসকাপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ড. নগেশ কুমার, জার্মানভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডরিক এবার্ট স্টিফটুং, বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি টিনা ব্লুম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছার ওপর এসডিজির প্রতিটি লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করে। একক কোনো সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কাজে এসডিজির সব লক্ষ্য পূরণ হবে না। সবগুলো মন্ত্রণালয়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদেরও অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ সফল হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে এসডিজির চ্যালেঞ্জ তুলনামূলক বেশি। লক্ষ্যপূরণও বেশ কঠিন হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ ও সচেতনতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান সরকার সব সময় আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এসডিজি অর্জনে সার্কের বিকল্প হিসেবে কার্যকর কিছু গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজির অভীষ্টগুলো বাস্তবায়নে এই মুহূর্তে আঞ্চলিক কাঠামোর উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সার্ক কার্যকর না হওয়ায় জনপ্রত্যাশার সঙ্গে আমাদের আঞ্চলিক কাঠামোর পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। এই পার্থক্য দূর করার জন্য হয়তো নতুন ধরনের পদ্ধতি এবং নতুন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন পড়বে। সেই কাঠামো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। এমনকি রাজনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।’

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে ১৮৪ কোটি মানুষের বাস। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের বসবাস এই অঞ্চলে। এখানে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারও উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের ওপরে। তবে বিশ্বের মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ৪.০৭ শতাংশ আসে দক্ষিণ এশিয়ায়। অবশ্য ভারতকে বাদ দিলে এর হার ১ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

এ বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। আর এর জন্য নতুন জ্ঞানের দরকার, নতুন বিশ্লেষণের দরকার। নতুন জ্ঞান এবং বিশ্লেষণ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের নতুন কর্মপন্থার অনুসন্ধান করতে হবে।

ড. নাগেশ কুমার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও অপুষ্টির প্রকোপ রয়েছে। এ অঞ্চলকে বাদ দিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারের ভূমিকাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য