kalerkantho


২০২১ সালের আগে হচ্ছে না বাণিজ্য মেলার স্থায়ী মাঠ

এম সায়েম টিপু   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২০২১ সালের আগে হচ্ছে না বাণিজ্য মেলার স্থায়ী মাঠ

প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় রাজধানীসহ দেশবাসীর প্রাণের মেলা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। কিন্তু এ মেলা আয়োজনে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রতিবছরই অনেক অর্থ ব্যয় হয়। এর বেশির ভাগ অর্থই অপচয় হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের অবকাঠামো নির্মাণের নানা প্রতিকূলতায় পড়তে হয়। এসব বাধা ও বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী এক্সিবিশন সেন্টারের।

এ নিয়ে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা শেষে চীনের সহায়তায় রাজধানীর পূর্বাচলে একটি স্থায়ী প্রদর্শনী সেন্টার করার প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু বছর বছর এই প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থ বরাদ্দ বাড়লেও কাজ শেষ হয় না। ২০১২ সালে নেওয়া প্রকল্পে ২০১৮ সালে স্থায়ী প্রদর্শনী সেন্টারে মেলার আয়োজন করার কথা থাকলেও তা এখন ২০২১ সালে গিয়ে ঠেকেছে।

জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাংলাদেশ-চায়না প্রদর্শনী কেন্দ্র নামের বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রকল্প অনুমোদনের ছয় বছর পর। গত ৯ বছরে প্রকল্পের আওতায় ভৌত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ হয়েছে মাত্র ২৩ শতাংশ। প্রকল্পের ধীরগতি এবং প্রদর্শনী সেন্টারের বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো আড়াই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম কোনায় খালি জায়গায় বাণিজ্য মেলার জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণের কথা ছিল। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান পাওয়ার কথা ছিল ২২১ কোটি টাকা।

তবে বিমানবন্দরের নির্ধারিত ওই জায়গা পাওয়া না যাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় রাজউক পূর্বাচল উপশহরে মোট ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। এরপর বেইজিং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার ডিজাইন প্রস্তাবিত প্রদর্শনী সেন্টারের নকশা করে। এ প্রেক্ষাপটে ব্যয় বাড়িয়ে ৭৯৬ কোটি টাকা ধরা হয়। এর মধ্যে চীনের অনুদান বেড়ে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও সরকারি তহবিলের ব্যয় ১৩৮ কোটি এবং ইপিবির নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয় ৩২ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ইপিবি সূত্র জানা গেছে, প্রকল্পটি আবারও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবে অতিরিক্ত ১৫ একর জমি কেনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, প্রদর্শনীকেন্দ্রের পরিসর বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে মোট ব্যয় হিসাব করা হয়েছে এক হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এতে চীনের সহায়তার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে। সরকারি তহবিল অর্থ বেড়ে ৪৭৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার অর্থায়ন বেড়ে হচ্ছে ২০৩ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটির চায়না অংশের করা কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরো দুই থেকে চার বছর সময় বেশি লাগতে পারে। দেশীয় অংশের যে কাজ করার কথা ছিল এর কিছুই এখনো করা হয়নি।

এ ছাড়া প্রদর্শনী সেন্টারটিকে আরো বিশ্বমানের করা এবং বর্তমান পরিকল্পনা থেকে আরো বাড়ানো নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হয় গত আগস্ট মাসে। প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করা কথা। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২০ সাল থেকে স্থায়ী প্রদর্শনী সেন্টারে করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল প্রদর্শনীকেন্দ্রটি নির্মাণের পর সামগ্রিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য দাপ্তরিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জনবলেরও প্রয়োজন হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।



মন্তব্য