kalerkantho


পুঁজিবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ কম্পানির দাপট

রফিকুল ইসলাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুঁজিবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ কম্পানির দাপট

দীর্ঘ পাঁচ বছর আর্থিক অবস্থায় কোনো উন্নতি নেই, লোকসানের পরও টিকে আছে। মুনাফার মুখ দেখতে না পারা এসব কম্পানি শেয়ারহোল্ডারদেরও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাবেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় লভ্যাংশ বঞ্চিত হয়েছেন শেয়ারহোল্ডাররা। কিন্তু মন্দাবস্থার মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ কম্পানির শেয়ারের দাপট পুঁজিবাজারে। ভালো কম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও, উল্টো পথে তালিকাচ্যুতির পথে থাকা কম্পানি। রবিবার ঝুঁকিতে থাকা সাতটি কম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারে সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হয়েছে। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, নতুন করে উত্পাদনে যাচ্ছে এবং বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কম্পানিতে বিনিয়োগে আসবে—এসব গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, তালিকাভুক্তিকরণ আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি লভ্যাংশ না দেওয়া ১৫ কম্পানিকে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগাকারী স্বার্থে বছরের পর বছর লোকসানে থাকা কম্পানির বিষয়ে সক্রিয় হন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চিঠিও দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ। কয়েকটি কম্পানির কারখানা পরিদর্শনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

৭ আগস্ট স্টক এক্সচেঞ্জের এক ঘোষণায় জানানো হয়, পাঁচ বছরের বেশি সময় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, ইমাম বাটন, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার কমপ্লেক্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, জুট স্পিনার্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক। এসব কম্পানিকে কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হবে।

ডিএসই সূত্র জানায়, কম্পানিকে পাঠানো ওই চিঠিতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। কম্পানির পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনো উত্তর না পেলে আইন অনুযায়ী কম্পানিগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে অতালিকাভুক্ত করবে। সেই প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এর আগে বছরের পর বছর লভ্যাংশ না দেওয়ায় দুটি কম্পানিকে তালিকাচ্যুত করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। এতে বিনিয়োগকারীর অনেক টাকা আটকে যায়। এবার বিনিয়োগকারীকে সতর্ক করতে কম্পানিকে কারণ দর্শিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রবিবার স্বল্পমূলধনী ও ঝুঁকিতে থাকা কম্পানির দাপট। শেয়ার কেনার চাপ বেড়েছে শেয়ার দাম, যা সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত দামে শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যদিও কম্পানিগুলো আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

কম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ আর ৮ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারের দাম বেড়েছে ১১টি কম্পানির। যার মধ্যে সাতটি কম্পানিই ঝুঁকিপূর্ণ। কম্পানিগুলো হচ্ছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার কমপ্লেক্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস ও জুট স্পিনার্স। এই কম্পানিগুলো বিগত পাঁচ বছর ও ২০১৮ অর্থবছরে আর্থিক উন্নতি নেই। লোকসানে থাকায় শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। কোনোটিতে আবার বছরের পর বছর লোকসান বেড়েই চলেছে।

রবিবার সবচেয়ে বেশি শেয়ারের দাম বেড়েছে জুট স্পিনার্স কম্পানির। কম্পানিটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেনি কম্পানিটি। আজ সোমবার কম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে লভ্যাংশ ঘোষণা হতে পারে—এমন তথ্য ছড়িয়ে শেয়াররে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, ঝুঁকিতে থাকা ১৫টির মধ্যে ১১টি কম্পানিই ২০১৮ সালেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। অন্য দুটি কম্পানি এবার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। রবিবার মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারো দাম বেড়েছে ৯.৭৪ শতাংশ, সাভার রিফ্যাক্টরিজের ৯.৯৬ শতাংশ, দুলামিয়া কটনের ৮.৭৬ শতাংশ, সমতা লেদার কমপ্লেক্সের ৯.৭১ শতাংশ, শ্যামপুর সুগার মিলসের ৯.৭২ শতাংশ আর জিল বাংলা সুগার মিলসের ৯.৮১ শতাংশ।



মন্তব্য