kalerkantho


উন্নত দেশের কাতারে যেতে ব্যাংক খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যেতে হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরো বেশি জোর দিতে হবে। ব্যাংক খাতের দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ করতে হবে, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে এবং ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার মাধ্যমে এ খাতের উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন ২০১৮’-এর শেষ দিনে বিআইবিএমের অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা এ সুপারিশ তুলে ধরেন।

‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক এক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বরকত-এ-খোদা বলেন, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ৭ শতাংশের ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। এই অর্জনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই তারা বিনিয়োগযোগ্য তহবিল জোগান দিচ্ছে।

ব্যাংক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ চালক নিয়ে কাজ করে বলে উল্লেখ করেন বরকত-এ-খোদা। এগুলো হলো রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, কৃষি এবং কটেজ ও এসএমই খাত (এমএসএমইস)। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উত্পাদন, ভোগ, পুঁজি গঠনে সহায়তা করে। তিনি রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাতকে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় দিক দিয়ে মানোন্নয়নের কথা বলেন। বরকত-এ-খোদা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয় বাড়াতে পোশাক খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাড়াতে দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা ও জনশক্তি রপ্তানির আরো ভালো গন্তব্য খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তিনি। বরকত-এ-খোদা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি করে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণ কমে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এর কারণ হিসেবে হুন্ডি, আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম থাকায় ডলারের সংকটসহ বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করে। এর ফলে বর্তমানে রেমিট্যান্স আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।

তিনি বলেন, দেশে কর্মক্ষম মানুষের জন্য মানসম্পন্ন চাকরির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সন্তোষজনক বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে। দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরো বেশি বরাদ্দ রাখতে হবে। কৃষিপণ্যের উত্পাদন বাড়াতে ভূমি রক্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। এসএমই খাতের উত্পাদন বাড়াতে এ খাতের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

সপ্তমবারের মতো আয়োজিত এই সম্মেলনের শেষ দিনে মোট ১৩টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। শেষ অধিবেশনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বিষয়ক একটি পত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় তিনি দেখান আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানাবিধ কার্যক্রমের প্রভাবে গ্রামীণ এলাকায় একদিকে যেমন ক্ষুদ্র সঞ্চয় বাড়ছে তেমনি এর প্রভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হচ্ছে।

উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত কৃষকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের এক কোটি ৭৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। জুন ২০১৮ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ৯ কোটি দুই লাখ হিসাবের মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতি হিসাবের পরিমাণ আট কোটি ১৩ লাখ, যা মোট হিসাবধারীর মধ্যে ৯০.১২ শতাংশ। গত ১০ বছরে ক্ষুদ্র আমানত হিসাবের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২.৩৭ গুণ বা ২৩৭ শতাংশ অন্যদিকে একই সময়ে বৃহৎ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩.০৪ গুণ বা ৩০৪ শতাংশ।



মন্তব্য