kalerkantho


দক্ষতায় এগিয়ে জনতা ব্যাংক

সপ্তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন শেষ হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে অন্য তিন ব্যাংকের চেয়ে দক্ষতায় এগিয়ে রয়েছে জনতা ব্যাংক। তার পরের অবস্থানে রয়েছে রূপালী, তৃতীয় অগ্রণী আর সবচেয়ে পিছিয়ে সোনালী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) দুই দিনের সপ্তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন-১৮ শেষে হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সেখানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ, আমানত, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও মানবসম্পদ পর্যালোচনা করে এ তথ্য দিয়েছে বিআইবিএম।

বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এবারের বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে চারটি প্ল্যানারি সেশনে ২২টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব সেশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।

প্রথম দিনের একটি সেশনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। সেখানে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে বলা হয়, কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক শতভাগ স্কোর অর্জন করতে পারেনি। জনতা ব্যাংকের পরে দক্ষতায় ভালো অবস্থানে রূপালী ব্যাংক। আর সবচেয়ে পিছিয়ে সোনালী ব্যাংক। তবে সার্বিক হিসাবে দক্ষতার মানদণ্ডে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে। পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

দেশে কার্যক্রম পরিচালনায় বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো দক্ষতায় সবচেয়ে এগিয়ে। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এরপর রয়েছে এবি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। আর ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো গড়ে ৯৬ ও ৮৯ শতাংশ প্রায়োগিকভাবে দক্ষ। যথাক্রমে আমানত সচলতা ঋণ এবং অগ্রিম প্রদানের ক্ষেত্রে। যেখানে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলো গড়ে ৮৩ ও ৮৪ শতাংশ প্রায়োগিকভাবে দক্ষ।

ভারতীয় ব্যাংকিং নিয়ে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক অনেক বেশি স্থিতিশীল তা বলা যাবে না। যদিও ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল।

এশিয়ার দেশগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ে বলা হয়, খেলাপি ঋণ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় উদ্বেগ। বাংলাদেশ, চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের খেলাপি ঋণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো যত ভালো করুক, নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসুক, কিন্তু সুশাসন না থাকলে টিকে থাকতে পারবে না। সুশাসনকে আগামী দিনগুলোতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়। অর্থনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তাই আমাদের সামনে তাকাতে হবে। পেছনের আর্থিক সমস্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।

এ সময় আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ বলেন, বিগত দিনগুলোতে আমাদের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নানা নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সামনে আমাদের সম্ভাবনা ও ঝুঁকির দিকগুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে।



মন্তব্য