kalerkantho


৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়নে বড় বাধা খেলাপি ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়নে বড় বাধা খেলাপি ঋণ

দেশের ব্যাংক খাতে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় বাধা খেলাপি ঋণ। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাংক মালিকরা প্রথমে ১ জুলাই এবং পরে ৯ আগস্ট থেকে ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ সুদ কার্যকর করার কথা ছিল। গত সেপ্টেম্বরে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এ হার কার্যকর করেনি অনেক ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন ২০১৮’-এর প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপিত ‘এক অঙ্ক সুদহার; প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনায় এ তথ্য উঠে আসে। এটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় বেশি হওয়ায় ঋণের সুদহার কমিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় প্রভিশনিংয়ের কারণেও তহবিল ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে।

হাবিবুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে দেশের ব্যাংক খাতের গড় সুদের হার ছিল ৯.৫৪ শতাংশ, যা আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল ১০.২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের হার ২০১৬ সালে ছিল ১১.৫৪ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে তা কিছুটা কমে ১১.৪১ শতাংশে দাঁড়ায়। হুট করেই ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঋণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৯.৭ শতাংশ, ১১ শতাংশ ও ৭.৪ শতাংশ সুদ আরোপ করা সম্ভব। যেখানে সব ধরনের ব্যাংকের আমানতের সুদের হার থাকবে ৬ শতাংশের নিচে। এটা না হলে, সব ব্যাংকের পক্ষে ঋণের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদ আরোপ করা সম্ভব হবে না, যদি না পরিচালন ব্যয়, মূলধন ব্যয় ও প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো উন্নতি না ঘটে।

এ বিষয়ে বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়েই সিঙ্গেল ডিজিট সুদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সিঙ্গেল ডিজিট সুদ বাস্তবায়নের সঙ্গে অনেক বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এর একটি হলো খেলাপি ঋণ, যাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলা যায়। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্য আরেকটি কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে ২ থেকে ৩ শতাংশ স্প্রেড (ঋণ-আমানতে সুদহারের ব্যবধান), সেখানে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে স্প্রেড ৪। আর প্রকৃত স্প্রেড ৫ শতাংশের অনেক ওপরে। এর প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না এলে স্প্রেড কখনোই নিম্নমুখী হবে না।

সম্মেলনের প্রথম দিন উপস্থাপিত এক গবেষণাপত্রে বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার খেলাপি ঋণের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সব সময়ই বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ৯.৩০ শতাংশ (জুন ২০১৮ পর্যন্ত ১০.৪১ শতাংশ), যেখানে চীনের খেলাপি ঋণ ১.৭৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার খেলাপি ঋণের হার ২.৫০ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩.০৭ শতাংশ।



মন্তব্য