kalerkantho


বাংলাদেশের সঙ্গে ৭ স্থলবন্দর সমন্বিত চেকপোস্টে উন্নীত হবে

সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৫০০ কোটি রুপি ব্যয় করবে ভারত

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৫০০ কোটি রুপি ব্যয় করবে ভারত

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্ত সীমান্ত বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি বাড়াতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ৫০০ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। ভারতের ইকোনমিক টাইমস ম্যাগাজিন সম্প্রতি এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের ব্যাবসায়িক উপস্থিতির বিপরীতে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ভারতের জন্য সহায়ক হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন থেকে বাংলাদেশ, নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সস্তা পণ্যের বিপুল আমদানি ভারতের জন্য একটি কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাই ভারতের মন্ত্রিপরিষদ কমিটি চার হাজার ৫০০ কোটি রুপি অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এ অর্থে ১৩টি স্থল শুল্ক বন্দরকে (এলসিএস) সমন্বিত চেকপোস্টে (আইসিপি) উন্নীত করা হবে।

গত রবিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (এলপিএআই) চেয়ারম্যান অনিল বাম্বাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সাতটি সীমান্ত পোস্টের উন্নয়ন করা হবে। সেগুলো হচ্ছে হিলি, ফুলবাড়ী, চ্যাংড়াবান্ধা, গোজাডাঙ্গা, মাহাদিপুর, সুতারকান্দি এবং কাওরপুইচুয়াহ। এর পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে ছয়টি পোস্ট। ভারত এরই মধ্যে ১০৯টি স্থল শুল্ক বন্দরের (এলসিএস) মধ্যে সাতটিকে সমন্বিত চেকপোস্টে (আইসিপি) রূপান্তর করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি পেট্রাপোল (বেনাপোল) এবং আগরতলা (আখাউড়া)।

আন্ত সীমান্ত ব্যবসায় ভারত সরকারের দুটি পরিকল্পনা রয়েছে। একটি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি অন্যটি প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থল সীমান্ত দিয়ে ভারতের বাণিজ্য ১৩ বিলিয়ন ডলারের, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হওয়া দেশটির ৭৬৯ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের ১.৭ শতাংশ। এর মধ্যে রপ্তানি হচ্ছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলারের, যা উপরোক্ত সময়ের মোট রপ্তানি ৩০৩ বিলিয়ন ডলারের ৩.৭ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশ মোট রপ্তানি করে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর বিপরীতে আমদানি করে ৬৮৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর মধ্যে দেশটির ৫০ শতাংশ রপ্তানি এবং ৭৫ শতাংশ আমদানি স্থল সীমান্ত দিয়ে হয়ে থাকে। তাই প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে সরকার সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে চায়। এর ফলে নেপাল ও ভুটানের মতো ভূবেষ্টিত দেশগুলো সমুদ্রবন্দরের সুবিধা পাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইটি ম্যাগাজিনকে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বর্তমানে সার্ক দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলারের, যা ৬১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা যায়। সস্তা পণ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি কৌশলগত উদ্বেগের কারণ বলেও মনে করা হয়। সুরেশ প্রভু বলেন, এটা বাস্তবতা যে চীন আমাদের অনেক প্রতিবেশী দেশে উপস্থিত রয়েছে। আমরা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব যেভাবে আফ্রিকাসহ অন্যান্য জায়গায় করছি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এলসিএসকে আইসিপিতে রূপান্তরের উদ্যোগ এরই মধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে পেট্রাপোল আইসিপি দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্য হয় ১৯ হাজার কোটি রুপি। যেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাণিজ্য ছিল ১৬ হাজার কোটি রুপি। (পেট্রাপোলকে আইসিপিতে রূপান্তর করা হয় ২০১৬ সালে।)

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, চীন, ভুটান, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ১৫ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে দেশটির ১০৯টি স্থল শুল্ক বন্দর রয়েছে।



মন্তব্য